মাকে চিঠি লিখে বোতলে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন দুই সৈনিক, মিলল ১০৯ বছর পর

আন্তর্জাতিক

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে লড়তে যাওয়ার সময় জাহাজ থেকে মা-কে উদ্দেশ্য করে চিঠি লিখেছিলেন দুই অস্ট্রেলিয় সৈনিক। একটি বোতলে ভরে সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন সেই চিঠি। বিশ্বাস ছিল, ঠিক মায়ের কাছে পৌঁছবে। তবে মায়ের কাছে না পৌঁছলেই দুই সৈনিকের লেখা শেষ চিঠি পেয়েছেন তাদের বংশধররা। তাও আবার ১০৯ বছর বাদে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘বিবিসি’ জানিয়েছে, ‘প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্রান্সের যুদ্ধক্ষেত্রে যোগ দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার দুই সৈনিক প্রাইভেট ম্যালকম নেভিল ও প্রাইভেট উইলিয়াম হার্লে। যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় দুজনে দুটি আবেগঘন চিঠি লেখে বোতলে ভরে সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন।

প্রাইভেট ম্যালকম নেভিল তার মাকে উদ্দেশ্য করে লেখা চিঠিতে জানিয়েছিলেন, ‘জাহাজের খাবার ‘সত্যিই ভাল ছিল’ এবং তারা ‘খুব খুশি’ ছিলেন।’ যুদ্ধে লড়তে গিয়ে মাত্র ২৮ বছর বয়সে প্রাণ হারিয়েছিলেন নেভিল। আর ফেরেননি মায়ের কাছে। উইলিয়াম হার্লে অবশ্য বেঁচে ফিরেছিলেন। হার্লের চিঠিতে উল্লেখ ছিল, বোতলটি ‘কোথাও গ্রেট অস্ট্রেলিয়ান বাইটে’ ছুড়ে ফেলা হয়েছিল।

ডেব ব্রাউন নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, চলতি মাসের শুরুর দিকে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার এসপেরেন্সের কাছে প্রত্যন্ত হোয়ার্টন বিচে আবর্জনা পরিষ্কার করার সময় একটি মোটা কাচের বোতল খুঁজে পান তার পরিবারের সদস্যরা। বোতলের ভেতরে থাকা কাগজের চিঠি ভিজে গেলেও তখনও পাঠযোগ্য ছিল। চিঠিগুলো হাতে পেয়ে ব্রাউন দুই সেনার পরিবারের সদস্যদের  খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেন।

চিঠিগুলি পেয়ে রীতিমতো অবাক হয়ে যান নেভিল ও হার্লের বংশধররা। ১০৯ বছর আগের লেখা চিঠি কিভাবে এখনও পাঠযোগ্য রইল তা নিয়ে কৌতুহল তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ‘বোতলটি হোয়ার্টন বিচে আসার আগে মাত্র কয়েক সপ্তাহ পানিতে থাকতে পারে এবং ১০০ বছরের বেশি সময় ধরে বালির নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *