ভোলার তজুমুদ্দিনে স্বামীকে মারধর করে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ৫ আসামি গ্রেফতার

বাংলাদেশ

বিএনপির মহাসচিবের তীব্র নিন্দা, শাস্তির দাবি

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় চাঁদার দাবিতে স্বামীকে মারধর করে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত আসামিসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সকলকে বিএনপি তার অঙ্গ সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে। তজুমুদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহব্বত খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গ্রেপ্তার আলাউদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. ইয়াছিনের ছেলে ও ফরিদ একই ইউনিয়নের নেজামুল হকের ছেলে।

এদিকে চাঞ্চল্যকর এ ধর্ষণের জেরে উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সম্পাদক ফরিদউদ্দিন ও তজুমদ্দিন সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাসেল ও তজুমদ্দিন সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন সজীবকে বহিষ্কার করেছে নিজ নিজ সংগঠন।

ওসি মহব্বত খান ইনকিলাবকে জানান, বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে মামলার প্রধান আসামি বিএনপি কর্মী মো. আলাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে ভোলার বোরহানউদ্দিন থেকে মামলার এজাহার নামীয় ২নম্বর আসামি উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ফরিদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শুক্রবার সকালে ওসি তজুমুদ্দিন ইনকিলাবকে জানান, তাদেরকে আদালতের পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুন তজুমদ্দিনের চাঁদপুর ইউনিয়নের মাওলাকান্দি এলাকায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের সঙ্গে আলাউদ্দিন ও ফরিদ সরাসরি জড়িত বলে ভিকটিমের পরিবার অভিযোগ করেছেন। এর আগে একই দিন ধর্ষণের সহায়তাকারী ঝর্ণা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বুধবার দুপুরে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকা থেকে মামলার ৫নম্বর আসামি মো. মানিককে (৩৫) গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৮ এর ভোলা ক্যাম্পের সদস্যরা। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৭ আসামির মধ্যে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উল্লেখ গত ২৯ জুন দুপুরের দিকে তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের মোল্লার পুকুর এলাকায় স্বামীকের মারধরের পর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর স্বামী বাদী হয়ে সাত জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামিকে করে তজুমদ্দিন থানায় একটি মামলা করেন।


বৃহস্পতিবার ভোলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন জেলা পুলিশ। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোহান সরকার সাংবাদিকদের জানান, আমরা সকল আসামিদের গ্রেপ্তার করে মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে প্রধান আসামিসহ এজাহার নামীয় উল্লেখযোগ্য আসামি আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই ধর্ষণের প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি এবং এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।

ভোলা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলম জানান ভোলার তজুমুদ্দিনের ঘটনায় জড়িত সকলকে দলীয় সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন জানান এ ঘটনা জানার সাথে সাথে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে তাৎক্ষণিক জেলা যুব দলের সভাপতি জামাল উদ্দিন লিটন ও সম্পাদক আব্দুল কাদের সেলিমকে ঘটনাস্থলে পাঠাই তারা ভিকটিমদের সাথে সাক্ষাৎ করে খোঁজ খবর নিয়ে সহযোগিতা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে । নুরুল ইসলাম নয়ন আরো বলেন দুষ্কৃতকারীদের কোন দল নেই। যারাই অন্যায় করবে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। বিএনপি কোন অপরাধীকে আশ্রয় প্রশ্রয় দেয় না।

জেলা যুবদলের সভাপতি জামাল উদ্দিন লিটন বলেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের নির্দেশে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের সেলিম সহ আমরা তজুমুদ্দিনের এ ঘটনার ভিকটিমদের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের খোঁজ খবর নিয়ে তাদের ন্যায় বিচার সহ সকল সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়েছে বলে জানান।

এ ঘটনায় বিএনপির মিডিয়া সেলের পাঠানো বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দুস্কৃতিকারিরা গত সোমবার ভোলায় চাঁদার দাবিতে স্বামীকে মারধর এবং স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের যে ন্যাক্কারজনক ও কাপুরুষোচিত ঘটনা ঘটিয়েছে, তার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পরও দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে একটি গোষ্ঠী তৎপর। দুষ্কৃতিকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সময়ের দাবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *