গণ-গীতাপাঠের ঘোষণা দিয়েছে কঠোর হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রীরা

ভারতে বাবরী মসজিদ পুনর্নির্মাণ ইস্যু আবারও উত্তপ্ত করে ছড়িয়েছে ভারত জুড়ে,এ ঘটনাকে একটা ইস্যু তৈরি করে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ফায়দা নিচ্ছে কঠোর নরেন্দ্র মোদির সরকার।
সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী বাবরী মসজিদের প্রতীকী নির্মাণস্থলকে ঘিরে গণ গীতাপাঠ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। তাদের দাবি, এই কর্মসূচির মাধ্যমে হিন্দু স্বার্থ রক্ষা ও মন্দির-মসজিদ বিতর্কে মতাদর্শগত অবস্থান স্পষ্ট করা হবে।
ঘোষণা অনুযায়ী, কলকাতার পারেড গ্রাউন্ড ও উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে একই দিনে গণ গীতাপাঠ কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। আয়োজকরা জানিয়েছে, হাজারো মানুষ একসঙ্গে গীতা পাঠ করবেন এবং এটি হবে তাদের মতে “ধর্মীয় শক্তি প্রদর্শনের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
এই কর্মসূচির ঘোষণার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের অন্যান্য রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করছে, উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো ইস্যুটিকে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি ও রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসলেই ধর্মীয় উত্তেজনা উসকে দেওয়া—এটাই বিজেপি-ঘনিষ্ঠ সংগঠনগুলোর পুরোনো কৌশল। তৃণমূল কংগ্রেসও অভিযোগ তুলে বলেছে, এ ধরনের আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য জনমনে বিভক্তি তৈরি করা।
মুর্শিদাবাদ, মালদহসহ মুসলিমপ্রধান এলাকায় ঘোষণাটি নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। স্থানীয়দের একাংশের দাবি,গণ গীতাপাঠের নামে ধর্মীয় শক্তিপ্রদর্শন পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন,বাবরি মসজিদ ইস্যু আদালতের রায়ে নিষ্পত্তি হলেও সেটি এখনো সংবেদন শীল। ধর্মীয় প্রদর্শনের মাধ্যমে এটিকে পুনরায় রাজনৈতিক ময়দানে আনা হচ্ছে। ধর্মভিত্তিক কর্মসূচি পাল্টাপাল্টি উত্তেজনা বাড়াতে পারে, যা নির্বাচনের আগে রাজ্যে অশান্তির ঝুঁকি তৈরি করবে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে,পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেকোনো ধরনের উসকানি বা আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী কর্মকাণ্ড ঠেকাতে অতিরিক্ত সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।
