খবর ৫২ ডেস্ক:

ভারতের দক্ষিণের রাজ্য তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদ থেকে এক বাংলাদেশি কিশোরীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকে জোরপূর্বক দেহ ব্যবসায় বাধ্য করা হয়েছিল। এই ঘটনাটি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সক্রিয় আন্তঃদেশীয় মানব পাচার চক্রের বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। খবরটি প্রকাশ করেছে তেলেঙ্গানা টুডে।
তেলেঙ্গানায় বাংলাদেশি নারী উদ্ধারের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগেও খাইরতাবাদ, চাদেরঘাট এবং বান্দলাগুডার বিভিন্ন যৌনপল্লী থেকে একাধিক বাংলাদেশি নারীকে উদ্ধার করা হয়েছে। মূলত ২০০০-০১ সাল থেকে সংঘবদ্ধ মাফিয়াদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই ধরনের যৌনপল্লীগুলো থেকে নিয়মিতভাবে নারীদের উদ্ধার করছে পুলিশ। শুধু বাংলাদেশ নয়, উজবেকিস্তান, রাশিয়া, ইউক্রেন, শ্রীলঙ্কা এবং নেপাল থেকেও নারীদের এনে এই পেশায় বাধ্য করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন কর্মকর্তার মতে, বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া নারীরা সীমান্তে দালালদের সাহায্যে অবৈধভাবে স্থল বা নৌপথে ভারতে প্রবেশ করে। ভারত ও বাংলাদেশে থাকা পাচার চক্রের নেটওয়ার্ক অত্যন্ত শক্তিশালী। তারা দালাল ও অন্যদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, বাংলাদেশের কিছু অঞ্চলে চরম দারিদ্র্য রয়েছে। এই সুযোগে পাচারকারীরা শিকার বা মাছ ধরার মতো ছদ্মবেশে অসহায় নারী ও কিশোরীদের খুঁজে বের করে এবং ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে যেতে উৎসাহিত করে। ভারতে আসার পর তাদের জন্য স্থানীয় পরিচয়পত্র তৈরি করা হয় এবং বিভিন্ন শহরে পাঠিয়ে জোরপূর্বক এই পেশায় নিযুক্ত করা হয়।
রাজ্য পুলিশের আরেক কর্মকর্তা বলেন, দারিদ্র্যের কারণে পুরুষ, নারী ও শিশুসহ বাংলাদেশিরা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে। ধরা না পড়া পর্যন্ত তারা নিজেদের বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে।
ভারতের কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ বোর্ড (সিএসডব্লিউবি) পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভারতে বাণিজ্যিক যৌন শোষণের শিকার হওয়া নারীদের মধ্যে ২.৭ শতাংশই বাংলাদেশের নাগরিক। বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া এসব নারীদের কলকাতা, দিল্লি, হায়দরাবাদ এবং মুম্বাইয়ের মতো বিভিন্ন শহরের দালালদের কাছে বিক্রি করা হয়।
