
পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত প্রতিবেশী দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এই পটভূমিতে ভারত তার দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে টুইন-ইঞ্জিন বিশিষ্ট পঞ্চম প্রজন্মের সবচেয়ে উন্নত স্টেলথ যুদ্ধবিমান (এমন সামরিক বিমান যা শত্রুপক্ষের রাডার এবং অন্যান্য সনাক্তকরণ পদ্ধতি থেকে নিজেদের আড়াল করতে সক্ষম) তৈরির জন্য একটি নতুন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ মে) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের কাঠামো অনুমোদন করেছেন। এই সিদ্ধান্তকে ভারতের সামরিক আত্মনির্ভরতার পথে একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে চীনের বিমান শক্তির দ্রুত সম্প্রসারণ ও পাকিস্তানের সঙ্গে তার প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব ভারতকে আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আগ্রহ বাড়িয়ে তুলছে।
মঙ্গলবার ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এই নতুন স্টিলথ ফাইটার জেট প্রকল্পের কাঠামো অনুমোদন করেন। প্রকল্পটি পরিচালনা করবে রাষ্ট্রীয় সংস্থা এরোনটিক্যাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (এডিএ)। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো, একটি টুইন-ইঞ্জিনযুক্ত পঞ্চম প্রজন্মের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান তৈরি করা, যা ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রযুক্তিগত শক্তি বহুগুণে বাড়াবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই অনুমোদন আসে ঠিক তখনই, যখন ভারত ও পাকিস্তান মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে চারদিনব্যাপী একটি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
এই সাম্প্রতিক সংঘাতে যুদ্ধবিমান, মিসাইল, ড্রোন এবং আর্টিলারি—সবই ব্যবহৃত হয়েছে, যা দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার দিকটি স্পষ্ট করে তোলে। পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা চীনা প্রযুক্তিতে তৈরি জে-১০ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ভারতের রাফাল জেট ভূপাতিত করেছে। উভয় দেশই প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে ড্রোন ব্যবহার করেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় একটি নতুন “ড্রোন প্রতিযোগিতা”র সূচনা করেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের বিমান বাহিনীর স্কোয়াড্রন সংখ্যা অনুমোদিত ৪২-এর স্থলে ৩১-এ নেমে আসায়, প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের তাগিদ আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
ফলে, ভারত সরকার স্টিলথ জেট প্রকল্পে দেশীয় বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও অংশগ্রহণের সুযোগ দিচ্ছে। তারা এককভাবে বা যৌথভাবে প্রস্তাব (বিড) করতে পারবে। এই উদ্যোগটি হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমিয়ে বেসরকারি খাতে প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন উৎসাহিত করবে, যা এর আগের প্রতিরক্ষা কমিটির সুপারিশের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ভারতের এই নতুন পদক্ষেপ তার আকাশ প্রতিরক্ষাকে আধুনিকীকরণের পথে এক বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সংঘাতে রাফাল বনাম জে-১০ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তাতে বোঝা যায় দক্ষিণ এশিয়ার আকাশ সীমা এখন আর কেবল নজরদারি নয়, প্রযুক্তিগত আধিপত্যেরও ময়দান হয়ে উঠেছে।
ভারত যদি এই স্টেলথ ফাইটার প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে, তবে তা কেবল প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নয়, কৌশলগত নির্ভরযোগ্যতাও অনেক গুণে বাড়াবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি ও ভারসাম্য বজায় রাখতে হলে, প্রতিযোগিতার পাশাপাশি আলোচনার দরজাও খোলা রাখতে হবে—এটাই সময়ের দাবি। তথ্যসূত্র : দ্য ডন
