
রাত পোহালেই বৈঠকে বসতে চলেছেন বিশ্বের দুই শক্তিধর রাষ্ট্রের প্রধান ভ্লাদিমির পুতিন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর ওই বৈঠকের কয়েক ঘন্টা আগেই ফের ভারত বিরোধী হুঙ্কার শোনা গেল মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের গলায়। বুধবার (১৩ অগস্ট) রাখঢাক না রেখেই তিনি বলেছেন, ‘আলাস্কায় যদি রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বৈঠক ফলপ্রসূ না হয় তাহলে ভারতীয় পণ্যের উপরে আরও কর চাপানো হবে।’
অর্থনৈতিক বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘ব্লুমবার্গ’-এর প্রতিনিধিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘নিষেধাজ্ঞা সত্বেও রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতের উপরে আমরা অতিরিক্ত কর চাপিয়েছে। যদি ট্রাম্প ও পুতিনের বৈঠক নিস্ফলা হয়, তাহলে ভারতের উপরে আরও অতিরিক্ত কর চাপানোর পথে যাব।’
এমনিতেই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে ভারতের উপরেই বেশি শুল্ক চাপিয়েছেন ট্রাম্প। বাংলাদেশি পণ্যের উপরে যেখানে শুল্ক ২০ শতাংশ সেখানে ভারতীয় পণ্যের উপরে প্রথমে ২৫ শতাংশ আমদানি কর ও তার উপর পেনাল্টি ধার্য করেছেন তিনি। আর ওই ঘোষণার পরেই দিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটনের ঠান্ডা লড়াই শুরু হয়েছে। যেভাবে পাকিস্তান-বাংলাদেশের মতো প্রদিবেশী দেশগুলির উপরে কম শুল্ক চাপিয়ে ভারতীয় সংস্থাগুলিকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, তাতে ক্ষুব্ধ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
২৫ শতাংশ কর চাপিয়েই শান্ত হননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর পর রাশিয়া থেকে তেল কেনার অপরাধে গত ৬ আগস্ট আরও ২৫ শতাংশ কর চাপান। অর্থাৎ ভারতীয় পণ্যের উপরে মোট ৫০ শতাংশ কর এবং তার উপরে পেনাল্টি ধার্য হয়েছে। ওই বিপুল পরিমাণ কর দিয়ে আদৌ মার্কিন আমদানিকারকরা ভারত থেকে কোনও পণ্য কিনবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্টই সন্দিহান বাজার বিশেষজ্ঞরা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায্য এবং অন্যায়’ বলেই আখ্যা দিয়েছে মোদি সরকার।
