
পশ্চিমবঙ্গে সদ্য ক্ষমতাচ্যুত তৃণমূল কংগ্রেসে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে। দলের বিদ্রোহী অংশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের সভানেত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে নতুন নেতৃত্ব কাঠামো গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি দলটির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।ভারতীয় বার্তাসংস্থা এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গঠিত বিদ্রোহী শিবির দাবি করেছে, দলের বিপুলসংখ্যক বিধায়ক, নেতা ও জনপ্রতিনিধি তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। তাদের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কলকাতার সাবেক মেয়র ফিরহাদ হাকিমসহ একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতাও বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন।
সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নতুন সরকার তাদের প্রথম বাজেট পেশ করার দিনই কলকাতার নিউ টাউন এলাকার একটি অভিজাত হোটেলে বিদ্রোহী বিধায়ক ও নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, সেখানে প্রায় পাঁচশ নেতা অংশ নেন। তাদের মধ্যে বর্তমান ও সাবেক বিধায়ক, জেলা সভাপতি এবং কাউন্সিলররাও ছিলেন।
বৈঠকে ৩০ সদস্যের একটি জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিদ্রোহী নেতারা এটিকেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রকৃত সাংগঠনিক কাঠামো হিসেবে দাবি করেছেন।
দলের প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে। বৈঠকে কণ্ঠভোটে বিধায়ক অরূপ রায়কে দলের নতুন সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
নতুন নেতৃত্ব কাঠামোয় ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথীন ঘোষ ও সাবিনা ইয়াসমিনকে সহসভাপতি করা হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান ও সন্দীপন সাহাকে সাধারণ সম্পাদক এবং আখরুজ্জামান আনসারিকে কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বিশেষ অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে অরূপ রায়কে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে।’
তিনি দাবি করেন, দলের গঠনতন্ত্র মেনেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে।
ঋতব্রতের ভাষায়, ‘আমরাই তৃণমূল কংগ্রেস। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এই বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে। কোনটি সঠিক আর কোনটি ভুল, তা নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।’
তিনি আরও জানান, খুব শিগগিরই জেলা কমিটি, রাজ্য কমিটি এবং মুখপাত্র প্যানেল গঠন করা হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিতে চান, তাহলে তাকে স্বাগত জানানো হবে।’
বৈঠকস্থলে দলের প্রতীক ব্যবহার করা হলেও সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো ছবি দেখা যায়নি।
বিদ্রোহী নেতারা দাবি করেছেন, দলের গঠনতান্ত্রিক সংকট থেকেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাদের বক্তব্য, প্রতি তিন বছর পর জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি পুনর্গঠন করার কথা থাকলেও ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে গঠিত কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা আর নবায়ন করা হয়নি।
প্রাথমিকভাবে গঠিত কমিটিতে অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, বিপ্লব মিত্র, আখরুজ্জামান আনসারি, সাবিনা ইয়াসমিন, সন্দীপন সাহা, রথীন ঘোষ, জাভেদ খান এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাখা হয়। পরে সেটি ৩০ সদস্যে সম্প্রসারিত করা হয়।
এছাড়া দলীয় আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখতে একজন নিরীক্ষক নিয়োগের ঘোষণাও দিয়েছে বিদ্রোহী শিবির।
অন্যদিকে, তৃণমূলের আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব বিদ্রোহী নেতাদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে। দলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, অরূপ রায়, জাভেদ খান, রথীন ঘোষ, বিপ্লব মিত্র, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, সাবিনা ইয়াসমিনসহ কয়েকজন নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে।
নোটিশে তাদের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে দলবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে|
