
পশ্চিমা বিশ্বের, বিশেষ করে মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যাধুনিক পরমাণু চালিত সাবমেরিনের (সাবমার্সিবল যুদ্ধজাহাজ) হুমকি মোকাবিলায় নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে নিয়েছে চীন। দেশটির সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি তৃতীয় এবং সবচেয়ে উন্নত এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার (রণতরী) ‘ফুজিয়ান’ (Fujian)-এ যুক্ত হতে যাচ্ছে বিশ্বের প্রথম ‘অ্যান্টি-টর্পেডো টর্পেডো’ (ATT) সিস্টেম। চীনের একটি সামরিক ম্যাগাজিনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়েছে।
চীনের প্রখ্যাত প্রতিরক্ষা সাময়িকী ‘ডিফেন্স রিভিউ’-এর জুন সংস্করণের একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ফুজিয়ান রণতরীটি বিশ্বের প্রথম এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার হতে যাচ্ছে যা শত্রুপক্ষের টর্পেডো সরাসরি ধ্বংস করার ‘হার্ড-কিল’ (সরাসরি আঘাত করে ধ্বংস করার) ক্ষমতাসম্পন্ন এটিটি (ATT) সিস্টেমে সজ্জিত। এর আগে চীনের তৈরি প্রথম দুটি রণতরী ‘লিয়াওনিং’ ও ‘শানডং’-এ প্রথাগত ১২-টিউবের ডেপথ চার্জ লঞ্চার (গভীর সমুদ্রে বিস্ফোরক ফেলার ব্যবস্থা) ব্যবহার করা হলেও, ফুজিয়ানে তার পরিবর্তে যুক্ত করা হয়েছে একটি আধুনিক ৬-টিউবের ৩২৪ মিলিমিটারের লাইটওয়েট টর্পেডো লঞ্চার।
.
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক নৌযুদ্ধে দূরপাল্লার গাইডেড টর্পেডো যেকোনো বড় যুদ্ধজাহাজের জন্য অ্যান্টি-শিপ মিসাইলের (জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র) চেয়েও বেশি মারাত্মক ও ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিশালী ‘সিউলফ-ক্লাস’ (Seawolf-class) এবং নতুন প্রজন্মের ‘SSN(X)’ সাবমেরিনের মতো বড় হুমকিগুলো থেকে নিজেদের এই বিশাল রণতরীকে সুরক্ষিত রাখতেই বেইজিং এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
.
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, চীনের এই নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণের নির্ভুলতা, ধ্বংসক্ষমতার নির্ভরযোগ্যতা এবং সার্বিক সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনের দিক থেকে বিশ্বমানের। মজার বিষয় হলো, ২০১০-এর দশকে মার্কিন নৌবাহিনী নিজস্ব একটি অ্যান্টি-টর্পেডো ডিফেন্স সিস্টেম (ATTDS) তৈরির প্রজেক্ট হাতে নিলেও তা ব্যর্থ হয়েছিল এবং তাদের বর্তমান প্রজেক্টটি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। সেই দিক থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে এই প্রযুক্তি ব্যবহারে বিশ্বমঞ্চে এক ধাপ এগিয়ে গেল চীন। গত নভেম্বর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা ‘ফুজিয়ান’ ২০২৪ সালের মে মাসে প্রথম সমুদ্র পরীক্ষা (Sea Trial) সম্পন্ন করেছিল।
