বিএনপি’র সমর্থন পেতে পারেন ইসলামী দলের ১২ নেতা

বাংলাদেশ রাজনীতি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর জোটের প্রার্থী হতে পারেন ইসলামী দলগুলোর ১২ নেতা। এসব নেতাকে আসন ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে বিএনপি’র পক্ষ থেকে ইতিবাচক মনোভাব দেখানো হয়েছে। বিএনপি’র তরফে গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার পর থেকেই এসব আসনে ইসলামী দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও এসব আসনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপি’র নেতারাও প্রচারণা চালাচ্ছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার পর বিষয়টি চূড়ান্ত হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

বিএনপি ও ইসলামী দলগুলোর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি’র সঙ্গে তাদের একাধিকবার অনানুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক হয়েছে। সেখানে এক বাক্সে ভোট করার পাশাপাশি আসন ভাগাভাগির বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আলোচনার ভিত্তিতে এ পর্যন্ত সম্ভাব্য ১২টি আসন ইসলামী দলগুলোকে ছাড়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বিএনপি। ইতিমধ্যে ইসলামী দলগুলো এসব আসনে নিজেদের প্রার্থীও দিয়েছে। তারা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। 

বিএনপি যেসব আসনে ইসলামী দলগুলোকে ছেড়ে দেয়ার কথা ভাবছে সেগুলো হলো- সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর এবং কোম্পানীগঞ্জ) আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতা এডভোকেট মোহম্মদ আলী, সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মনির হোসেন কাসেমী, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে নেজামে ইসলাম পার্টির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহ-সভাপতি ও হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, কুমিল্লা-২, (হোমনা-তিতাস) আসনে ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি, মুন্সীগঞ্জ-১ (সিরাজদিখান-শ্রীনগর) আসনে মাওলানা আবদুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর), চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি-ভুজপুর) আসনে নেজামে ইসলাম পার্টির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা শেখ মোহাম্মদ শাহজাহান, ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর-আদাবর) আসনে খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক, শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা-মধুখালী) আসনে খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুফতি শরাফত হোসাইন, এবং চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ বোস্তামী) আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা নাসির উদ্দীন মুনির।

কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি বলেন, আমি নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছি। আর বিএনপি’র সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো বসা হয়নি। তবে বিএনপি’র সঙ্গে জোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে হেফাজতে ইসলামসহ ধর্মভিত্তিক সংগঠন ও দলগুলোর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক করা হচ্ছে। একইসঙ্গে নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি বৃহৎ জোট গঠনের চিন্তা করছে। গত এপ্রিলে রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে হেফাজতের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপি। পরে ১লা আগস্ট চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের আমীর মাওলানা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিএনপি’র একটি প্রতিনিধিদল। ওই সময় জোট প্রসঙ্গে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, হেফাজতে ইসলাম অরাজনৈতিক সংগঠন। তবে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে থাকা কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে আমরা আলাপ-আলোচনা করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *