
খবর ৫২ ডেস্কঃ একাদশ শ্রেণির বাংলা বইয়ের গীতিকবিতা ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম, গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু মুসলমান মিলিয়া বাউলা গান আর মুর্শিদী গাইতাম’সহ অসংখ্য কালজয়ী বাউল গান ও গণসংগীতের রচয়িতা, একুশে পদকপ্রাপ্ত বাউল সম্রাট শাহ্ আব্দুল করিমের ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সিলেট শহরের একটি ক্লিনিকে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
কিংবদন্তিতুল্য এই বাউলের জন্ম ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামে। আমৃত্যু তিনি ওই গ্রামেই ছিলেন। অত্যন্ত সহজ-সরল জীবনযাপন করতেন। অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে গানে গানে তুলে ধরেছিলেন মানবতার আলেখ্য। শাহ আবদুল করিম স্বাধীনতাপূর্ব আন্দোলন-সংগ্রামে গণসংগীতের
মাধ্যমে গণজোয়ার সৃষ্টি করেছিলেন। ১৯৫৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দী সিলেটে এলে সেখানকার রেজিস্ট্রি ময়দানে আয়োজিত জনসভায় শাহ আবদুল করিম গণসংগীত গেয়েছিলেন। ১৯৫৭ সালে ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনে তার গান শুনে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী পিঠ চাপড়ে বলেছিলেন, ‘তুমি ভবিষ্যতে গণমানুষের মহান শিল্পী হবে।’
বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম উজানধলের বাড়িতে ‘শাহ আবদুল করিম সংগীতালয়’ প্রতিষ্ঠা করেন। তার রচিত অসংখ্য গান দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও শ্রোতাদের অন্তরে মুগ্ধতা ছড়িয়ে দেয়। শাহ্ আব্দুল করিমের ছেলে শাহ নূর জালাল বলেন, ‘এখন বর্ষাকাল, বাড়ির চারদিকে পানি। তাই বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি। দিনে মিলাদ মাহফিল ও সিরনি বিতরণ করা হবে। রাতে বাউল গানের আসর হবে, এতে বাবার গান পরিবেশন করবেন বাউলরা।’
জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী পাভেল বলেন, ‘বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের মৃতুবার্ষিকী পালন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সংগীত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বাউল সমিতির সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন ও সংগীত পরিবেশন করবেন।’
এ ছাড়া আগামীকাল শান্তিগঞ্জের উজানীগাঁও গ্রামে বাউল লাল শাহ্র বাড়িতে মিলাদ মাহ্ফিল ও বাউল গান অনুষ্ঠিত হবে। এর আয়োজন করেছে লাল শাহ সংগীতালয়।
