
খবর ৫২ ডেস্কঃ ডাকসু নির্বাচনে গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ–সমর্থিত বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলকে সমর্থন দিয়েছিল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে ভোটে এই প্যানেলের ভরাডুবি হয়েছে। এ নিয়ে এনসিপির ভেতরে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ডাকসুতে বিপর্যয়ের জন্য দলটির নেতারা একে অন্যকে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ করছেন।
এনসিপি তারুণ্যনির্ভর দল হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাদের অবস্থান বা গ্রহণযোগ্যতা এখন কেমন, ডাকসু নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে তা অনেকেই বুঝতে চাইবেন—এমন ধারণা দলটির নেতাদের মধ্যেও ছিল। সে কারণে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে দলটির নেতাদের নানামুখী তৎপরতা ছিল। কিন্তু ভোটে এর প্রতিফলন কতটা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদকে অনেকে এনসিপির ছাত্রসংগঠন মনে করে থাকেন। ডাকসু নির্বাচনে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের ভিপি প্রার্থী ছিলেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ৯ দফা দাবি ঘোষণা করে আলোচনায় আসা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের। আর জিএস প্রার্থী ছিলেন সম্মুখসারির আরেক সাবেক সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার। ডাকসু নির্বাচন করবেন বলেই তাঁরা দুজন এনসিপিতে যোগ দেননি, এমন আলোচনা ক্যাম্পাসে রয়েছে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত এক বছর ক্যাম্পাসে নানা ধরনের কার্যক্রমে যুক্ত থেকেছেন। তাঁদের প্যানেলের অন্য প্রার্থীদেরও অনেকে ক্যাম্পাসের পরিচিত মুখ।
গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা ডাকসুর ২৮টি পদের একটিতেও জিততে পারেননি। ভিপি পদে মাত্র ১ হাজার ১০৩ ভোট পেয়েছেন কাদের আর জিএস পদে বাকের পেয়েছেন ২ হাজার ১৩১ ভোট। ভোটের হিসাবে দুজনই হয়েছেন পঞ্চম। আর চারটি সম্পাদকীয় পদে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের প্রার্থীরা দ্বিতীয় হয়েছেন, তবে অন্যগুলোতে তাঁরা উল্লেখযোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাও তৈরি করতে পারেননি।নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনসিপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন নেতা গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী ডাকসু নির্বাচনের আগে দলের একজন শীর্ষ নেতাকে জানিয়েছিলেন, নির্বাচন প্রভাবিত করতে একটি বিশেষ দলের পক্ষ থেকে নানা তৎপরতা চলছে। কিছু সুনির্দিষ্ট ঘটনার কথাও তিনি ওই নেতাকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু ওই নেতা নির্বাচনে বিশেষ দলের প্রভাব ঠেকাতে ন্যূনতম কোনো চেষ্টাও করেননি।
ডাকসুতে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের এই বিপর্যয় জাতীয় রাজনীতিতে এনসিপির ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে বলে মনে করেন দলটির অনেক নেতা। ডাকসুর ফলাফল দেখার পর ক্ষুব্ধ হয়ে একজন নেতা ইতিমধ্যে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
