ফারাক্কায় পানি প্রবাহ সরজমিনে পর্যবেক্ষণ বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের

জাতীয়

ভারত সফরে আসা বাংলাদেশের কারিগরি বিশেষজ্ঞরা মঙ্গলবার ফারাক্কায় গঙ্গা-পদ্মায় পানিপ্রবাহ সরজমিনে পর্যবেক্ষণ করলেন। সোমবার বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলটি সকালে বিমানে কলকাতায় আসেন। পরে দুপুর নাগাদ শতাব্দী এক্সপ্রেস ট্রেনযোগে ফরাক্কার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। সন্ধ্যায় তাঁরা নিউ ফরাক্কা স্টেশনে পৌঁছালে প্রতিনিধি দলটিকে স্বাগত জানান ফরাক্কা বাঁধের জেনারেল ম্যানেজার আর ডি দেশপাণ্ডে ও অন্যান্য আধিকারিকরা। মঙ্গলবার সকালে  তারা ভারতের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে ফারাক্কা বাঁধ পরিদর্শন করেন । গঙ্গা থেকে পদ্মায় প্রবাহিত পানির পরিমাণ এবং অবস্থা খতিয়ে দেখেন তাঁরা। গঙ্গা থেকে পানি কি প্রক্রিয়ায় পদ্মায় প্রবাহিত হচ্ছে, তাও সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ দলটি।
বাঁধ পরিদর্শনের পর যৌথ নদী কমিশনের বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতা মুহম্মদ আবুল হোসেন বলেন, জানুয়ারি মাসে আমাদের পানিপ্রবাহ ভাল ছিল। ফেব্রুয়ারিতে তা কমেছে। পানিকমা একটি প্রাকৃতিক বিষয়। তিনি আরও বলেন, যাবতীয় কাজ পানিবণ্টন চুক্তি অনুযায়ী বাস্তবায়িত হচ্ছে।  তবে চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করবে বিশেষ কমিটি।
কলকাতায়  এ নিয়ে রুটিন বৈঠক হবে। 
আগামী ৬-৭ মার্চ কলকাতায় দুই দিনের জন্য যৌথ নদী কমিশনের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ ও ভারতের কারিগরি বিশেষজ্ঞ কমিটির ৮৬ তম বৈঠক হবে।  
গঙ্গা-পদ্মা পানি চুক্তি ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়া এবং বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা। সেই হিসেবে ৩০ বছর মেয়াদি সেই চুক্তির পুনর্নবীকরণ হওয়ার কথা আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে। গত বছরের জুন মাসে দুই দেশের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল যে, চুক্তি পুনর্নবীকরনের প্রাথমিক পর্যায়ে কারিগরি বিশেষজ্ঞ কমিটি আলোচনা শুরু করবেন।
৫ দিনের সফর শেষে ৮ মার্চ কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নির্দিষ্ট উড়ানে  প্রতিনিধি দলটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *