বদরুল হক

খবর৫২.কম
গত সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন বিমান হামলার পর বেশিরভাগ আমেরিকান মিডিয়া সংযত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তারা এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে কিনা তা নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে। কিন্তু ফক্স নিউজ সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে – তারা এই হামলার পক্ষে সক্রিয় প্রচারণা চালিয়েছে, যা অনেক বিশ্লেষকের মতে, ট্রাম্পকে এই পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করেছিল।
হ্যানিটির জোরালো সমর্থন:
ফক্স নিউজের প্রভাবশালী উপস্থাপক শন হ্যানিটি হামলাকে “ইতিহাসের সেরা সামরিক সাফল্য” বলে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, “এটি গত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দক্ষ ও প্রয়োজনীয় শান্তি অভিযান ছিল যা ইরানের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অবসান ঘটাবে।”
লেভিনের উত্তেজিত ভাষণ:
ধারাভাষ্যকার মার্ক লেভিন আরও উত্তপ্ত ভাষায় বলেন, “আমরা তাদের শক্তিশালী জবাব দিয়েছি। এই ইসলামি-নাৎসিরা আমাদের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছিল। এখন আপনি নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারেন।”
হামলার পক্ষে প্রস্তুতি:
হামলার আগেই ফক্স নিউজ ইরানকে লক্ষ্যবস্তু করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল:
- ১৭ জুন ব্রায়ান কিলমিড ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংসের পক্ষে যুক্তি দেখান
- জেসি ওয়াটার্স ইরানকে “বিশ্বকে জিম্মি করতে চাওয়া” দেশ হিসেবে চিত্রিত করেন
ট্রাম্পের ওপর ফক্সের প্রভাব:
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প ফক্স নিউজের এই কভারেজ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছিলেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ফক্সের এই অবস্থান ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে।
মিডিয়ার বিভক্তি:
যদিও ফক্সের বেশিরভাগ ব্যক্তিত্ব হামলার পক্ষে ছিলেন, টাকার কার্লসনের মতো কিছু উপস্থাপক এই হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছিলেন। কার্লসন সিনেটর টেড ক্রুজকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, “আপনি ইরান সম্পর্কে কিছুই জানেন না!”
সমালোচনা ও সমর্থনের দ্বন্দ্ব:
পেন্টাগনের এক ব্রিফিংয়ে ফক্সের রিপোর্টার জেনিফার গ্রিফিন যখন হামলার বিস্তারিত জানতে চান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী তাকে “ভুল তথ্য প্রদানকারী” বলে আক্রমণ করেন। তবে শেষ পর্যন্ত গ্রিফিনই হামলাকে “সফল অভিযান” বলে মন্তব্য করে বিতর্ক এড়ান।
বিশ্লেষকদের মত:
মিডিয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফক্স নিউজের এই ভূমিকা দেখায় কিভাবে একটি মিডিয়া নেটওয়ার্ক সরাসরি বৈদেশিক নীতিকে প্রভাবিত করতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে তাদের এই আঁতাত আমেরিকান মিডিয়া ল্যান্ডস্কেপে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
