
খবর ৫২ ডেস্ক: ভারতের বিতর্কিত শিল্পগোষ্ঠী আদানি গ্রুপকে দেওয়া ৯০০ একর জমি নিয়ে বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ভূমি নিয়ে সাবেক শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ।
এই জমিটি বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত এবং চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ও তিন পার্বত্য জেলায় যাতায়াতের জন্য ‘চিকেন নেক’ নামে পরিচিত। পূর্বে এখানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য একটি স্থাপনা (নেভাল বেস) নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল।
চুক্তি নিয়ে অসন্তোষ ও ভারতের নীরবতা
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় ভারতের অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রস্তাব দেওয়া হয়। যদিও হাসিনা সরকার প্রথমে বাগেরহাটের মোংলা ও রামপালে জমি দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল, ভারত তা প্রত্যাখ্যান করে। পরবর্তীতে তারা মিরসরাইয়ে এক হাজার ৫৫ একর জমি দাবি করে, যা পরে ৯০০ একরে চূড়ান্ত হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, চুক্তিটি পুনর্মূল্যায়নের জন্য বাংলাদেশ প্রায় আট মাস আগে ভারতকে চিঠি দিলেও, এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি।
বেজার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এই চুক্তিতে জমির কোনো মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি এবং প্রকল্পের সব ধরনের উন্নয়ন কাজ, এমনকি শ্রমিক নিয়োগও ভারতীয় প্রতিষ্ঠান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ: ‘একখণ্ড ভারত’
সামরিক বিশ্লেষক মেজর (অব.) মোহাম্মদ মোস্তফা এই চুক্তিকে “শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকার হীনমানসিকতা” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এখানে বাংলাদেশের কোনো স্বার্থ জড়িত নেই, পুরো প্রকল্পটিই ভারতের একতরফা স্বার্থে করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের উপকূলে হওয়ায় এখানে একটি জেটি স্থাপন করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে (সেভেন সিস্টার্স) পণ্য পরিবহনের সুবিধা রাখা হয়েছে।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ এই প্রকল্পকে “বাংলাদেশের পেটের মধ্যে একখণ্ড ভারত” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, এটি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি।
প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা ও সরকারের পদক্ষেপ
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘নয়া দালান’-এর চেয়ারম্যান মুজাহিদুল ইসলাম জানান, গত বছর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ভারতীয়রা এই প্রকল্প এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। বেজা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭০০ একর জমির বিষয়ে কোনো লিখিত চুক্তি ছিল না, এটি মৌখিক অঙ্গীকার ছিল, তাই এখন এটি অবমুক্ত করা হবে। তবে ৯০০ একরের বিষয়ে চুক্তি থাকায় তা বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে।
বেজার বিনিয়োগ উন্নয়নবিষয়ক নির্বাহী সদস্য সালেহ আহমেদ নিশ্চিত করেছেন যে তারা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন, যেখানে এই প্রকল্পটি বাতিলের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এই ধরনের একটি প্রকল্প কোনো স্বাধীন দেশের জন্যই আত্মঘাতী।”
