
খবর ৫২ ডেস্ক: ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর বহুল আলোচিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রণয়নের প্রক্রিয়া বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর), গণভোট এবং সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেওয়ায়, এই সনদে সবার সই করা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। সনদ প্রণয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন নিজেই এই অনিশ্চয়তায় ভুগছে।
পিআর পদ্ধতি ও গণভোট নিয়ে বিভাজন
সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মতো দলগুলো পিআর পদ্ধতিতে সংসদ নির্বাচন এবং সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চেয়েছেন। জামায়াত গণভোট বা রাষ্ট্রপতির ঘোষণার মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়নের দাবি তুলেছে। এসব প্রস্তাব মানা না হলে সনদে সই না করারও হুমকি দিয়েছে তারা।
অন্যদিকে, বিএনপি প্রথম থেকেই পিআর পদ্ধতির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, “পিআর পদ্ধতি বাংলাদেশের জন্য উপযোগী নয়। কিছু দল নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে।” সোমবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নেতারা পিআর ও গণভোটের মতো বিষয়গুলোকে নির্বাচন বিলম্বিত করার কৌশল হিসেবে দেখছেন। বিএনপি, এলডিপি, ১২ দলীয় জোট ও কিছু বামপন্থি দল চায়, সংবিধান-সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলো আগামী সংসদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হোক।
কমিশনের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, সনদের ভাগ্য নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ওপর। কমিশন ইতিমধ্যেই ২৮টি দলের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছে এবং তাদের কাছ থেকে মতামত নিয়েছে।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে সনদের একটি চূড়ান্ত খসড়া তৈরি করে তা শেষবারের মতো দলগুলোকে পাঠানো হবে। এরপর একটি ‘স্বাক্ষর অনুষ্ঠান’ আয়োজন করা হবে, যেখানে দলগুলো সনদে সই করবে কি-না, তা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে।
জানা গেছে, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি কী হবে, তা সনদের মূল অংশে থাকবে না। বরং কমিশন এ বিষয়ে একটি পৃথক সুপারিশ অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেবে।
গত ২৯ জুলাই ৩০টি দলকে সনদের একটি প্রাথমিক খসড়া দেওয়া হয়েছিল। ১৬ আগস্ট একটি পূর্ণাঙ্গ সমন্বিত খসড়া দেওয়া হয়, যেখানে সংবিধানের ওপর সনদকে স্থান দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে বিএনপিসহ অনেক দল আপত্তি জানিয়েছে।
আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। কমিশন এই সময় আর বাড়াতে চায় না এবং এর মধ্যেই তাদের দায়িত্ব শেষ করতে চায়।
