প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামল: একটি সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ

প্রচ্ছদ শিরোনাম

তারিখ: ৫ জুলাই ২০২৫ | বিশেষ প্রতিবেদন

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ ৫,৬৯০ দিনের শাসনামল নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র বিতর্ক চলছে। তার পতনের পর একাধিক গবেষণায় উঠে এসেছে, জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত, স্বৈরাচারী tendencies এবং কৌশলগত ভুলগুলোর কারণে তার শাসন শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি। যদিও তার সমর্থকরা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন, সমালোচকরা নিম্নলিখিত বিষয়গুলোকে তার পতনের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন:


শেখ হাসিনার শাসনামলের বিতর্কিত দিকসমূহ

১. গণতন্ত্রের অবসান: বিরোধী দল, সিভিল সোসাইটি এবং মুক্ত মত প্রকাশের উপর কঠোর দমন-পীড়ন।
২. একদলীয় শাসনের প্রবণতা: রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে দলীয়করণ করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করা।
৩. মিডিয়া দমন: স্বাধীন সাংবাদিকতা, বিশেষ করে ডিজিটাল সুরক্ষা আইনের অপব্যবহার করে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ।
৪. দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়া: বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এবং পরিবার-পরিজনের স্বার্থরক্ষা।
৫. জনবিচ্ছিন্নতা: সাধারণ মানুষের সমস্যা উপেক্ষা করে ঔদ্ধত্য প্রকাশ।
৬. অত্যধিক ভারত-নির্ভরতা: কৌশলগত সম্পর্ককে একপেশে করে আঞ্চলিক ভারসাম্য হারানো।
৭. আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্নতা: পশ্চিমা বিশ্ব ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্কের অবনতি।
৮. সরকারি সম্পদ লুটপাট: বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সাথে অস্বচ্ছ চুক্তি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ।
৯. নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা: ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ।
১০. বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকারকে রাজনীতিকরণ: জাতির পিতার legacyকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার।
১১. গুম-খুনের রাজনীতি: আইনের শাসনকে ক্ষমতা ধরে রাখার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার।
১২. দল ও সরকারের মধ্যে সীমানা blur করা: প্রশাসনকে দলীয় কর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া।
১৩. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ: রুল অব ল’কে ক্ষমতাসীনদের পক্ষে ব্যবহার।
১৪. ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসন: “মাদার অব ডেভেলপমেন্ট” এর মতো ব্যক্তিপূজার প্রচারণা।
১৫. ভূ-রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্ত: অতিমাত্রায় এক দেশের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া।
১৬. ছাত্রলীগের সহিংসতা: দলীয় ছাত্রসংগঠনের অত্যাচারকে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা।


পতনের নেপথ্যে

  • ভারতের সমর্থন হারানো: ২০২৪-এ ভারতের নতুন সরকারের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন।
  • পশ্চিমা চাপ: মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণতন্ত্র হরণের জন্য মার্কিন/ইইউ নিষেধাজ্ঞা।
  • অর্থনৈতিক সংকট: বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি ও বেসরকারি খাতের অবনতি।
  • সেনাবাহিনীর অসন্তোষ: প্রশাসনে দলীয়করণের ফলে establishment এর সমর্থন হ্রাস।

বর্তমান অবস্থা

  • শেখ হাসিনা বর্তমানে নির্বাসনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
  • তার পরিবার ও ঘনিষ্ঠরা বিদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।
  • আওয়ামী লীগের ৪৫,০০০ নেতাকর্মী বিভিন্ন দেশে (প্রধানত ভারতে) অবস্থান করছেন।
  • বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে মামলা ও জবাবদিহিতার প্রক্রিয়া চলছে।

ঐতিহাসিক সমান্তরাল

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পতনের সাথে শেখ হাসিনার অবস্থার মিল রয়েছে। উভয়ই আঞ্চলিক শক্তির উপর অতিনির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন, কিন্তু শেষমেশ সেই মিত্ররাই তাদের পরিত্যাগ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *