পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কেইকো ফুজিমোরির জয়

আন্তর্জাতিক

দীর্ঘ ভোট গণনা ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থী রাজনীতিবিদ কেইকো ফুজিমোরি চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছেন। প্রায় সম্পূর্ণ ভোট গণনা শেষে তিনি সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় তার জয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৯৯.৮ শতাংশ ভোট গণনা শেষে কেইকো ফুজিমোরি পেয়েছেন ৫০.১ শতাংশ ভোট, আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বামপন্থী জোটের প্রার্থী রবার্তো সানচেজ পেয়েছেন ৪৯.৮ শতাংশ ভোট। গণনা বাকি থাকা ৪০,২১৩টি ভোটের চেয়ে ফুজিমোরির ব্যবধান ৪৩,৩৮৬ ভোট বেশি হওয়ায় তার জয় নিশ্চিত হয়।

এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এল পাইস জানায়, পেরুর ইতিহাসে কেইকো ফুজিমোরি প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন। টানা তিনবার পরাজয়ের পর এটি ছিল তার চতুর্থ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী লড়াই।

নির্বাচনে অত্যন্ত অল্প ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হওয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বামপন্থী প্রার্থী রবার্তো সানচেজ শুরু থেকেই ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং নতুন করে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসী পেরুবাসীদের ভোট বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা ভোট ফুজিমোরির জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

নির্বাচনী প্রচারণায় কেইকো ফুজিমোরি ‘ফুজিমোরির প্রত্যাবর্তন, শৃঙ্খলার প্রত্যাবর্তন’ স্লোগান সামনে রেখে মূলত অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনের ইস্যুকে গুরুত্ব দেন। তিনি সেনাবাহিনী মোতায়েন, অপরাধী অভিবাসীদের বহিষ্কার এবং কঠোর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেন।

তিনি তার বাবা সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবের্তো ফুজিমোরির শাসনকালকে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার মডেল হিসেবে তুলে ধরলেও ওই সময়ের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে পেরুতে এখনো গভীর রাজনৈতিক বিভাজন রয়েছে।

নতুন সরকারকে এখন পার্লামেন্টে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমঝোতা করে কাজ করতে হবে, কারণ ফুজিমোরির দল পপুলার ফোর্স এককভাবে সংস্কার পাসের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দরিদ্র ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আস্থা অর্জন এবং রাজনৈতিক বিভাজন কমিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই নতুন প্রেসিডেন্টের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *