পাঞ্জাবজুড়ে ভয়াবহ বন্যা, জরুরি অবস্থা ঘোষণা

আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন সংস্থার (ওয়াসা) মুখপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ে কমপক্ষে ২৮ জন নিহত এবং ৯০ জন আহত হয়েছেন সেখানে। আবহাওয়া অধিদপ্তর (পিএমডি) সোমবার জানায়, ১৭ই জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে বজ্রসহ প্রবল বৃষ্টিপাত হবে। জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতি বছরই পাকিস্তানে মৌসুমি বৃষ্টি হয়, যা প্রায়শই প্রাণঘাতী বন্যা, ভূমিধস এবং গৃহচ্যুতি ঘটায়, বিশেষত দুর্বল নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন। 

পাঞ্জাব ওয়াসার মহাপরিচালক তৈয়ব ফারিদ বলেন, রাওয়ালপিণ্ডি, চাকওয়াল ও আশপাশের এলাকায় অতিবৃষ্টির কারণে নদীগুলো প্লাবিত হয়েছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, জরুরি উদ্ধারকারী দল মাঠে প্রস্তুত রয়েছে। নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় চলাফেরা থেকে বিরত থাকতে, বৈদ্যুতিক লাইনের কাছাকাছি না যেতে এবং খোলা ম্যানহোল থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। রেসকিউ পাঞ্জাবের মুখপাত্র ফারুক আহমদ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিতে প্রদেশজুড়ে মোট ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৭৬ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন লাহোরে, ৮ জন ফয়সালাবাদে, ৪ জন পাকপত্তনে, ৩ জন করে শেখুপুরা ও ওকারায় এবং ১ জন করে নানকানা সাহিব ও সাহিওয়ালে মারা গেছেন। 

রাওয়ালপিণ্ডির লেহ নাল্লার পানির স্তর বেড়ে যাওয়ায় গাওয়ালমন্ডি ও কট্টারিয়ান ব্রিজের জন্য বন্যা সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অফিস। পিডিএমএর মহাপরিচালক জানিয়েছেন, লেহ নাল্লার আশপাশের নিচু এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজনে সরিয়ে নেয়ার সময় প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে। ওই এলাকায় কেউ জড়ো হলে বা গোসল করতে নামলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে পিডিএমএ। রাওয়ালপিণ্ডিতে স্থানীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে ঝেলামে ধোক বাদার গ্রামে বন্যার পানিতে আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধারে অভিযান চলছে। এখন পর্যন্ত ৪০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং পুরো এলাকা খালি না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম চলবে। সেনাবাহিনী ও রেসকিউ কর্মীরা আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষ সরিয়ে নিচ্ছে।

 চাকওয়াল জেলায় বুধবার রাতে ১০ ঘণ্টায় ৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে, যা হঠাৎ প্লাবনের সৃষ্টি করেছে। পিডিএমএ মুখপাত্র ইরফান আলী কাঠিয়া বলেন, অত্যাধিক বৃষ্টির ফলে শহরের বহু এলাকা পানির নিচে চলে গেছে। তবে বৃষ্টিপাত থেমে যাওয়ায় পানি নামতে শুরু করেছে এবং উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চাকওয়ালের জেলা প্রশাসক কুরাতুল আইনের নেতৃত্বে রেসকিউ দলগুলো মাঠে রয়েছে। হাসপাতাল ও সরকারি ভবনগুলোতে ত্রাণ ও চিকিৎসা প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর সহযোগিতার সম্ভাবনা মাথায় রেখে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ে পিডিএমএ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও জরুরি অপারেশন সেন্টার সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। হেলিকপ্টারসহ অন্যান্য উদ্ধার সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *