পাক-আফগান সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘাত, উভয়পক্ষের শতাধিক নিহতের দাবি

প্রচ্ছদ শিরোনাম

ঢাকা, ১২ অক্টোবর ২০২৫: পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে গত কয়েকদিন ধরে ভয়াবহ সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী বলে বিবেচিত হচ্ছে। উভয় দেশই একে অপরের সেনাচৌকি দখল ও ধ্বংসের পাশাপাশি ব্যাপক সেনা হত্যার অভিযোগ তুলেছে।

আফগান তালেবান প্রশাসনের মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেছেন, শনিবার রাতে তাদের ‘প্রতিশোধমূলক’ হামলায় কমপক্ষে ৫৮ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে যে তাদের ২৩ জন সদস্য নিহত হয়েছে, তবে তারা পাল্টা অভিযানে ২০০ তালেবান ও সংশ্লিষ্ট ‘সন্ত্রাসী’ নিধনের দাবি করেছে।

বন্ধুত্বে ফাটল

১৯৯৬ সালে তালেবানের প্রথম ক্ষমতায় আসার সময় পাকিস্তান ছিল তাদের অন্যতম প্রধান মিত্র। কিন্তু ২০২১ সালে তালেবানের ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই এই সম্পর্কে ফাটল ধরে। পাকিস্তান ক্রমাগত অভিযোগ করছে যে তালেবান প্রশাসন পাকিস্তানবিরোধী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে।

সংঘাতের সূচনা

গত বৃহস্পতিবার রাতে আফগানিস্তানের কাবুল ও পাকতিয়া প্রদেশে সংঘটিত বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। তালেবান সরকার এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে। পাকিস্তানি এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা দাবি করেছেন যেこれらの হামলা টিটিপি নেতা নূর ওয়ালি মেহসুদকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছিল।

উভয়পক্ষের অবস্থান

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ তালেবান বাহিনীর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ‘আফগানিস্তান রক্ত নিয়ে খেলা করছে।’ পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি অভিযোগ তুলেছেন যে তালেবান বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।

অন্যদিকে, আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইনায়াতুল্লাহ খাওয়ারিজমি স্পষ্ট দিয়ে বলেছেন, ‘আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলার পাল্টা জবাব দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন কিছু ঘটলে আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।’

আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

দক্ষিণ এশিয়ার এই নতুন সংঘাত নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইরান, কাতার ও সৌদি আরব উভয় পক্ষকে সংযম ও সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘কূটনৈতিক সমাধান ছাড়া এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরবে না।’

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও আফগান বিশেষজ্ঞ আসিফ দুররানি মনে করেন, সংঘাতটি বড় আকার ধারণ করার আশঙ্কা আপাতত কম। তিনি বলেছেন, ‘সমস্যার মূলে রয়েছে টিটিপি ইস্যু। আফগান প্রশাসন যতদিন তাদের উপস্থিতি অস্বীকার করবে, ততদিন সীমান্তে অস্থিরতা চলবে।’

এদিকে, তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি বর্তমানে ভারত সফরে রয়েছেন, যা এই অঞ্চলের জটিল কূটনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *