
দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন বলেছেন, ‘বিগত ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে ইনকিলাব লড়াই করেছে। অনেক নিপীড়ন-নির্যাতনেও ইনকিলাব ঈমান বিক্রি করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না ইনশাআল্লাহ। সামনে সুদিন আসছে। যথাসময়ে নির্বাচন হবে এবং বিএনপি সরকার গঠন করবে। আর তখন আলেম-ওলামাদের সহযোগিতায় এদেশে একটি সুন্দর সমাজ গঠিত হবে।’ দৈনিক ইনকিলাবের ৩৯ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল রাজধানীর টিকাটুলিতে ইনকিলাব ভবনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন বলেন, ‘বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের সূচনা হয়েছিল মূলত ২০১৩ সালে শাহবাগে। ওই শাহবাগ আন্দোলনে ভারত থেকে দলে দলে লোক এসে যোগ দিয়েছে। তখন এদেশে আলেম সমাজের উপর আক্রমণ শুরু হয়েছে। দেশের বিরুদ্ধে ওই ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় দৈনিক ইনকিলাব এককভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। রাসূল (সা.)-এর অবমাননাকে কেন্দ্র করে তখন দেশজুড়ে আলেম-ওলামারা রুখে দাঁড়িয়েছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তখন আমাকে অফিসে ডেকে নিয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার শর্তে হাজার কোটি টাকার প্রলোভনও দেখিয়েছেন। কিন্তু আমি ঈমান বিক্রি করিনি। ইনকিলাব কথনো ঈমান বিক্রি করেনি।’ বাহাউদ্দীন বলেন, ‘সরকারের সাথে আপস না করার কারণেই ইনকিলাবের উপর নানান নিপীড়ন-নির্যাতন নেমে আসে। আমার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসহ অনেক মামলা দেয়া হয়। আমার অফিস থেকে কর্মরত অবস্থায় ছয়জন সাংবাদিককে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। ইনকিলাবের তখনকার নিউজ এডিটর, ভারপ্রাপ্ত চিফ রিপোর্টার, রিপোর্টারÑ সবাই কয়েক মাস জেল খেটেছে।’
ইনকিলাব সম্পাদক বলেন, ‘সরকারের দায়ের করা মামলার সঠিক হিসাব নেই এবং এখনো সে সব মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে।’ তিনি তৎকালীন আইজিপি এবং ওয়ারী থানার ওসিকে অভিযুক্ত করে বলেন, ‘তারা প্রচ- ঔদ্ধত্য দেখিয়েছে। তারা চেয়েছিল আমি স্বীকার করি, কিছুই জানি নাÑ তাহলে আমাকে ছেড়ে দেবে। কিন্তু আমি বলেছি, আমি সম্পাদক, পত্রিকায় যা কিছু ছাপা হয়েছে তার দায় আমার।’
তিনি বলেন, ‘আমার পরিবারের উপর নেমে আসে অমানবিক নির্যাতন। মা অসুস্থ বাসায় একা। ওই বাসায় তল্লাশি চালিয়েছে। ভাই পালিয়ে বেড়িয়েছে। আমার স্ত্রী বাসায় একা, তখন বাসায় তল্লাশি চালিয়েছে। তারপরও ইনকিলাব দমেনি। তখন যারা সাহসিকতার সঙ্গে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তারা আলেম সমাজ এবং ইনকিলাব।’
‘ইনকিলাব অনেক চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে এসেছে। ইনকিলাবে কর্মরত সাংবাদিকরা বেতন ছাড়া অনেক কষ্টে কাজ করেছেন। ওই সময়ে ইনকিলাবের সাংবাদিক ও কর্মীরা দুই বছর বেতন ছাড়াই কাজ করেছেন, যা আজকের দিনে বিরল দৃষ্টান্ত। আমি আশা করি, সামনে সুদিন আসছে। ইনকিলাবের সাংবাদিকরা অবশ্যই এর সুফল ভোগ করবেন।’
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের মহাসচিব অধ্যাপক মাওলানা শাব্বীর আহমদ মোমতাজী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম, দৈনিক ইনকিলাবে সহকারী সম্পাদক মুনশী আবদুল মাননান, ক্রীড়া বিভাগের প্রধান রেজাউর রহমান সোহাগ, বার্তা সম্পাদক মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, চিফ রিপোর্টার ফারুক হোসাইন, সিনিয়র রিপোর্টার ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, দৈনিক ইনকিলাবের ব্যুরো প্রধানদের পক্ষে রাজশাহীর ব্যুরো প্রধান রেজাউল করিম রাজু, রূপায়ণ গ্রুপের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিশেষ সংবাদদাতা রফিক মুহাম্মদ।
শুরুতেই পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। কুরআন তিলাওয়াত করেন মহাখালীস্থ মসজিদে গাউসুল আজমের ইমাম হাফেজ মাওলানা মো. মিজানুর রহমান। আলোচনা শেষে দোয়া পরিচালনা করেন মসজিদে গাউসুল আজমের খতিব দৈনিক ইনকিলাবের সাবেক নির্বাহী সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমীন খান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক ইনকিলাবের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. মঈন উদ্দীন, নির্বাহী পরিচালক ফাহিমা বাহাউদ্দীন, পরিচালক এডমিন অ্যান্ড এইচআর নাজিফা বাহাউদ্দীন, পরিচালক (মার্কেটিং) মো. আব্দুল কাদের। আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ক্রীড়া সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, সদস্য সচিব হাজী মোস্তফা জামান, যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতউল্লাহ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, মুক্তিযুদ্ধ-বিষয়ক সম্পাদক হারুন অর রশীদ, দফতর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, যুবদল নেতা আমিনুর রহমান আমিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়ন, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি নাহিদুজ্জামান শিপন, শ্রমিক দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, কেন্দ্রীয় নেতা আলাউদ্দীন, মৎসজীবী দলের সাবেক সদস্য সচিব আব্দুর রহিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক শাহ আলম, সদস্য সচিব কে এম সোহেল রানা, কেন্দ্রীয় নেতা আমিরুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন, গণদলের চেয়ারম্যান এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী, মহাসচিব আবু সৈয়দ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার মহাসচিব প্রফেসর ইকবাল হোসেন প্রধান। উপস্থিত ছিলেন চিত্রনায়ক মাহফুজ আহমেদ। জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সহসভাপতি গাজী আনোয়ার।
মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের সর্ববৃহৎ অরাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ ড. মাওলানা নজরুল ইসলাম আল-মারুফ, অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, অধ্যক্ষ মুফতি মাওলানা এজহারুল হক, উপাধ্যক্ষ মাওলানা মোবাশ্বিরুল হক নাঈম, অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর মো. ছাদেক হাসান, অধ্যক্ষ ড. মাওলানা আবুবকর সিদ্দিক, অধ্যক্ষ মাওলানা মো. জহিরুল হক, অধ্যক্ষ মাওলানা বদিউল আলম সরকার, অধ্যক্ষ মাওলানা মীর মোশাররফ মো. মোস্তফা, সুপার মাওলানা ফারুক আহমদ, মাওলানা মামুনুর রশিদ, মাওলানা কাজী ইসমাইল প্রমুখ।
অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শাইখুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক ও মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রবীণ রাজনীতিবিদ আল্লামা আব্দুর রব ইউসুফী, ইসলামী ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি প্রবীণ রাজনীতিবিদ অ্যাড. মাওলানা আব্দুর রকীব, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ড. গোলাম মুহিউদ্দিন ইকরাম, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আহমেদ আলী কাসেমী ও যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আব্দুল জলিল, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমির ড. ঈসা শাহেদী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম।
আরো শুভেচ্ছা জানিয়েছে সোনালী ব্যাংক পিএলসি, অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, রূপালী ব্যাংক পিএলসি, এবি ব্যাংক পিএলসি, ডাচ বাংলা ব্যাংক পিএলসি, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংক, পপুলার লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, রুপায়ণ গ্রুপ, ওয়ালটন গ্রুপ, দৈনিক ভোরের আকাশের প্রকাশক জাহের উদ্দিন, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপ, কানাডার নাগরিক টিভির সিইও টিটু রহমান, ইনফো পাওয়ার পিআর, মাস্টহেড পিআর প্রমুখ।
