
ভারতের মহারাষ্ট্রের ঐতিহাসিক শানিয়ারওয়াড়া দুর্গে কয়েকজন মুসলিম নারী নামাজ পড়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার পর বিজেপি সাংসদ মেধা কুলকর্ণি ও তার অনুসারীরা দুর্গ এলাকায় গিয়ে গোমূত্র দিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠান করেছেন। খবর এনডিটিভির।
একই সঙ্গে শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) দুর্গে নামাজ পড়ার ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ভারতের পুরাতত্ত্ব বিভাগ স্থানীয় পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে।
‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠানের পর মেধা কুলকর্ণি বলেন, ‘শানিয়ারওয়াড়া মারাঠা সাম্রাজ্যের প্রতীক। সেখানে নামাজ পড়া দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। এটি নামাজ পড়ার জায়গা নয়। এ বিষয়ে প্রশাসন যেন কঠোর ব্যবস্থা নেয়। আমরা সেখানে ‘শিব বন্দনা’ করেছি ও স্থানটি শুদ্ধ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা যেখানে নামাজ পড়ে, সেই জায়গাকে ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে দাবি করে। এ বিষয়ে হিন্দু সমাজ এখন সতর্ক।’
অন্যদিকে মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নিতেশ রানে বলেন, শানিয়ারওয়াড়া হিন্দুদের গৌরবের প্রতীক। যদি হিন্দুরা হাজি আলীতে হনুমান চালিসা পড়ে, মুসলমানদেরও কষ্ট লাগবে। তাই মসজিদেই নামাজ পড়া উচিত।’
অন্যদিকে এআইএমআইএম মুখপাত্র ওয়ারিস পাঠান বলেন, ‘কয়েকজন নারী ৩ মিনিট নামাজ পড়েছে, এতে সমস্যা কোথায়? সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার দেয়া আছে। গোমূত্র নয়, মানসিকতা শুদ্ধ করা উচিত।’
ঘটনার পর পুণে পুলিশ জানিয়েছে, ‘এটি পুরাতত্ত্ব বিভাগের সংরক্ষিত স্থান। পুরাতত্ত্ব বিভাগের কর্মকর্তার অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। দুর্গের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
