দুশ্চিন্তায় সময় নষ্ট করবেন না, হাসিনার লাশও দেশে ফিরবে না: আশরাফ কায়সার

বাংলাদেশ রাজনীতি

ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা আর কখনোই বাংলাদেশে ফিরবেন না, এমনকি তার লাশও এ দেশে ফিরবে না বলে দৃঢ় মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও চিন্তক আশরাফ কায়সার। তিনি দেশের জনগণকে শেখ হাসিনার ফেরা না-ফেরা নিয়ে অযথা চিন্তায় সময় নষ্ট না করে পরিবার-পরিজন ও প্রকৃতিকে সান্নিধ্য দিয়ে জীবন উপভোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন।


সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং তথাকথিত ‘কালচারাল ফ্যাসিস্ট’দের কার্যক্রম নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।


বক্তব্যের শুরুতেই দেশবাসীর উদ্দেশে আশরাফ কায়সার বলেন, “আমাদের জীবনের একটি মুহূর্তও শেখ হাসিনা ফিরবে কি ফিরবে না এই ধরনের চিন্তায় নষ্ট করবেন না। ঠিক আপনার সন্তানের সাথে সময় কাটান, প্রিয়তমার সাথে সময় কাটান, ফুল গাছ দেখেন, লেকের পাড়ে বসে থাকেন, জীবন উপভোগ করেন। ফ্যাসিস্টরা কোনদিন ফিরে আসে না, শেখ হাসিনা কোনদিন ফিরে আসবে না, তার মৃতদেহ কোনদিন বাংলাদেশে ফিরবে না।”

.

আশরাফ কায়সার অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়েও দেশে একশ্রেণির সুবিধাভোগী গণমাধ্যম ও ‘কালচারাল ফ্যাসিস্ট’ দলচ্যুত রাজনৈতিক শক্তিকে পুনর্বাসিত করার চক্রান্ত করে যাচ্ছে। নীলফামারীতে চারজন মানুষ হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও সংস্কৃতি কর্মী আসাদুজ্জামান নূরকে নিয়ে ফেসবুকে ‘বাকের ভাই’ কেন্দ্রিক মায়াকান্নাকে তিনি ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনেরই অংশ বলে চিহ্নিত করেন।

.

আইন এবং বিচার ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কারের জোর তাগিদ দিয়ে তিনি আরও বলেন, কেবল ফৌজদারি হত্যার বিচারই মূল বিষয় নয়; বরং গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে গণহত্যাকে উসকে দেওয়া ও জনগণের অধিকার কাড়াও বড় অপরাধ।

গণমাধ্যমের অপব্যবহার ও ফ্যাসিবাদ তৈরির কৌশল সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে রাজনৈতিক এই বিশ্লেষক বলেন, আমাদের ফৌজদারী অপরাধের আইন দিয়ে কেবল বিচার হয়, কিন্তু কেউ যদি ষড়যন্ত্র করে টকশোতে একটা লোককে নিয়ে গিয়ে তাকে অপমান করে—তার অপরাধের সংজ্ঞা কি? তাদের অপরাধ খুনের চেয়ে বেশি, তাদের অপরাধ গণহত্যাকে উস্কে দেওয়ার, তাদের অপরাধ বাংলাদেশের মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার, তাদের অপরাধ মিডিয়াকে কুক্ষিগত করে শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট বানানোর।”

অতীতের ঘটনা টেনে আশরাফ কায়সার স্মৃতিচারণ করেন, ফুটবল দলের প্রাক্তন অধিনায়ক আমিনুল হক যখন কারানির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন, তখন কথিত সুশীল সমাজের নিরপেক্ষতা বা মায়াকান্না কোথায় ছিল। বর্তমানে একদল ‘পেইড জার্নালিস্ট’ টকশোতে বসে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মিথ্যাচার ছড়িয়ে যাচ্ছে বলেও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

অবিলম্বে টেলিভিশনগুলোর টিআরপি ও ইউটিউবারদের ভিউ ভিত্তিক অপসাংবাদিকতা নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি কালচারাল ফ্যাসিস্টদের মুখোশ উন্মোচনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। দেশের মানুষের অধিকার ও আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানানোর গুরুত্ব মনে করিয়ে দিয়ে তিনি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন, “বাংলাদেশে যারা জীবন দিয়েছে অধিকারের জন্য, তাদের প্রতি আমার ঈমান ঠিক রাখতে হবে। কালচারাল ফ্রন্ট দিয়ে আওয়ামী লীগের এই যে ফ্যাসিজম ফিরে আসার আশঙ্কা—সেটি অত্যন্ত অমূলক। কিন্তু আমরা একসাথে না দাঁড়ালে, মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ না করলে, কালচারাল ফ্যাসিস্টদের মুখ উন্মোচন না করলে এই আশঙ্কা নিয়েই আমাদের বেঁচে থাকতে হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *