খবর ৫২ ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৫, বুধবার
ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন সামনে রেখে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন প্রার্থীরা। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রয়োজনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ক্যাম্পাসে থাকবে সেনাবাহিনী। ভোটকেন্দ্রের বুথ ছাড়া পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে।
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রার্থীদের মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।
তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বরাতে রিটার্নিং কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনের দিন ৮টি ভোটকেন্দ্রে তিন স্তরের নিরাপত্তা থাকবে:
- প্রথম স্তর: বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি সদস্য ও প্রক্টরিয়াল টিম।
- দ্বিতীয় স্তর: পুলিশ বাহিনী।
- তৃতীয় স্তর: বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি প্রবেশমুখে সেনাবাহিনী ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে অবস্থান করবে।
সেনাবাহিনী প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবে এবং ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র ঘিরে রাখবে। ভোট গণনার সময় শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকতে পারবেন।
অন্যান্য নিরাপত্তা নির্দেশনা
- নির্বাচনের সাত দিন আগে থেকে আবাসিক হলে কোনো বহিরাগত থাকতে পারবে না। নিয়মিত টহল পরিচালনা করে এটি নিশ্চিত করা হবে।
- নির্বাচনের আগের দিন ও নির্বাচনের দিন (৮-৯ সেপ্টেম্বর) মেট্রোরেলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন বন্ধ থাকবে।
- নির্বাচনের দিন ক্যাম্পাস পুরোপুরি সিলগালা থাকবে। বৈধ শিক্ষার্থী, অনুমোদিত সাংবাদিক ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।
- ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন রুটে অতিরিক্ত বাস ট্রিপের ব্যবস্থা করা হবে।
- সাইবার বুলিং ও গুজব প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বুথ ছাড়া পুরো কেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে এবং ভোট গণনাও ক্যামেরার সামনে হবে।
চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ও প্রচারণা
এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ২৮টি পদে ৪৭০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ইতোমধ্যে পুরোদমে প্রচারণা শুরু করেছেন। ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, বাম সমর্থিত প্রতিরোধ পর্ষদ এবং স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য নিজ নিজ প্রচার কার্যক্রম শুরু করেছে।
তবে, প্রচারণার প্রথম দিনেই ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের দুটি ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। জোটের জিএস পদপ্রার্থী এসএম ফরহাদ এ ঘটনাকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন এবং এর তদন্ত চেয়েছেন।
নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রার্থীরা সাদা-কালো পোস্টার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ব্যবহার করতে পারবেন। তবে দেয়াল, গাছ, বা খুঁটিতে পোস্টার লাগানো যাবে না। এছাড়া, পোস্টারে নিজের ছবি ছাড়া অন্য কারো ছবি বা প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না।
