খবর৫২.কম, ঢাকা
তারিখ: ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
দীর্ঘ দুই দশকের অধিক সময় অপেক্ষার পর শেষপেয় মিলল ২৭তম বিসিএস (২০০৫) পরীক্ষার নিয়োগবঞ্চিত ৬৭৩ প্রার্থীর। তাদের নিয়োগ দিয়ে সরকারি গেজেট প্রকাশ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) মন্ত্রণালয়ের নব নিয়োগ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) এর ৫ নভেম্বরের সুপারিশক্রমে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তরা বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারের প্রবেশ পদে জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ অনুসারে (২২,০০০-৫৩,০৬০ টাকা) বেতনক্রমে যোগদান করবেন।
ক্যাডারভিত্তিক নিয়োগের সংখ্যা
নিয়োগপ্রাপ্ত ৬৭৩ জনের মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারে ৯০ জন, পুলিশ ক্যাডারে ৭০ জন, অডিট ক্যাডারে ৫ জন, আনসার ক্যাডারে ১ জন, কর ক্যাডারে ১ জন, সমবায় ক্যাডারে ৫ জন ও খাদ্য ক্যাডারে ২ জন রয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য ক্যাডারের প্রার্থীরাও নিয়োগ পেয়েছেন।
জ্যেষ্ঠতা অক্ষুণ্ণ, আর্থিক সুবিধা ভূতাপেক্ষিক নয়
প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, জ্যেষ্ঠতা অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে এই নিয়োগপ্রাপ্তরা তাদের ব্যাচের প্রথম নিয়োগ প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকেই ভূতাপেক্ষিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হিসেবে গণ্য হবেন। তাদের ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা সেই তারিখ থেকেই কার্যকর থাকবে। তবে, এজন্য তারা কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধা পাবেন না।
শর্তাবলি: বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ ও বন্ড বাধ্যবাধকতা
নিয়োগের শর্তে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্তদেরকে বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা সরকার নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এরপর পেশাগত ও বিশেষ প্রশিক্ষণও গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষানবিশকাল হবে দুই বছর, যা প্রয়োজনে আরও দুবছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। শিক্ষানবিশকালে অযোগ্য বিবেচিত হলে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সাথে পরামর্শ ছাড়াই তাঁদের চাকরি থেকে অপসারণ করা যাবে।
এছাড়া, প্রত্যেক নিয়োগপ্রাপ্তকে একজন জামানতদারসহ ৩০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি বন্ডে স্বাক্ষর করতে হবে। এই বন্ড অনুযায়ী, শিক্ষানবিশকাল বা তার পরের তিন বছরের মধ্যে চাকরি থেকে ইস্তফা দিলে প্রশিক্ষণকালীন প্রাপ্ত সব ধরনের অর্থ ভাতা ফেরত দিতে হবে। ইস্তফা প্রদানের পর সরকারি প্রাপ্য অর্থ আদায় না করলে শৃঙ্খলা বিধিমালা অনুসারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্বস্তি
২৭তম বিসিএস পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর নানা জটিলতা ও আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া। দীর্ঘ সময় ধরে চাকরির আশায় অপেক্ষমাণ এই প্রার্থীদের জন্য গেজেট প্রকাশ নিঃসন্দেহে একটি বড় স্বস্তির খবর বয়ে এনেছে।
