ঢাকা, ৮ অক্টোবর (২০২৫): বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দুর্নীতির সূচক সম্পর্কিত ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
গত সোমবার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত তারেক রহমানের সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করা হয়, ‘বিএনপির আগের আমলে (২০০১-২০০৬) বাংলাদেশ টানা পাঁচ বছর বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের তালিকায় ছিল।’
এ বিষয়ে মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) টিআইবি একটি বিবৃতি জারি করে জানায়, এটি একটি তথ্যগত ভুল এবং বেশ কয়েকটি বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমেও তা ভুলভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
টিআইবির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই) প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে। বাংলাদেশকে এই সূচকে প্রথম অন্তর্ভুক্ত করা হয় ২০০১ সালে, যখন জরিপকৃত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম স্কোর ছিল বাংলাদেশের। সে সময় ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার।
এরপরের চার বছর টানা বাংলাদেশ সূচকের সর্বনিম্ন স্কোর করে, যখন ২০০২-২০০৫ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার। তাই ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের ‘টানা পাঁচ বছর’ দাবিটি সঠিক নয়।
টিআইবি আরও স্পষ্ট করে যে, সিপিআই সূচকে ০ থেকে ১০০ স্কেলে রেটিং দেওয়া হয়, যেখানে ০ স্কোর মানে দুর্নীতির সর্বোচ্চ মাত্রা এবং ১০০ স্কোর মানে দুর্নীতির সর্বনিম্ন মাত্রা।
এ প্রসঙ্গে টিআইবি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশের সঠিক ও নিশ্চিত তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, না হলে যেকোনো প্রকার ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হতে পারে অথবা এই তথ্যের ভিন্ন অর্থ দাঁড় করানো হতে পারে।
টিআইবি জানায়, তারা ইতিমধ্যেই এই ত্রুটিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর দাবির বিষয়ে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি সংশোধনী প্রকাশের অনুরোধ করেছে।
উল্লেখ্য, টিআইবি স্পষ্ট করেছে যে সিপিআই সূচক তৈরি ও প্রকাশ করে তাদের মূল সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল। টিআইবির নিজস্ব গবেষণার বিশ্লেষণ বা তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো সুযোগ নেই। অন্যান্য দেশের শাখার মতো টিআইবিও শুধুমাত্র বাংলাদেশের জাতীয় পর্যায়ে মূল সংস্থার সিপিআই সূচকের ফলাফল তুলে ধরার কাজ করে।
