
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের আগে ভয়-শঙ্কা, আলোচনা-সমালোচনার শেষ নেই। কী হবে এই ম্যাচে! গতকাল সকালে চট্টগ্রামের সাগরিকা স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নামলো সফরকারীরা। দুই উইকেটে ৮৯ রানে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় জিম্বাবুয়ে। এরপর চা বিরতি পর্যন্ত দারুণ প্রতিরোধ। টাইগার বোলারদের যেন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন দুই ব্যাটার নিক ওয়েলচ ও শন উইলিয়ামস। দু’জনই ফিফটি হাঁকালেন। তবে দিনের শেষ সেশনে স্পিন ঘূর্ণিতে স্বস্তি আসে টাইগার শিবিরে। এই সেশনে ৭ উইকেট তুলে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। টেস্ট ক্রিকেটে ফেরার দিনে চমৎকার বোলিং করেন অফ স্পিনার নাঈম হাসান। চট্টগ্রাম টেস্টে দিন শেষে ৯ উইকেটে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ প্রথম ইনিংসে পুরো ৯০ ওভার খেলে ২২৭ রান। দিন শেষে অপরাজিত থাকেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার টাফাডজোয়া সিগা (১৮) ও ব্লেসিং মুজারাবানি (২)। চমৎকার বোলিংয়ে ৬০ রানে ৫ উইকেট নেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ৫৩ টেস্টে এটি তার ১৬তম পাঁচ উইকেট।
গতকাল উইকেটশূন্য দ্বিতীয় সেশনের পর খেলতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় জিম্বাবুয়ে। ক্র্যাম্পের কারণে মাঠ ছাড়েন নিক ওয়েলচ। এরপর আর কোনো জুটি গড়তে পারেনি জিম্বাবুয়ে। ক্রেইগ আরভিনের পর শন উইলিয়ামসকে ফিরিয়ে দেন নাঈম। পরপর দুই বলে ওয়েসলি মাধেভেরে ও রিচার্ড এনগারাভাকে ফেরান তাইজুল। অষ্টম উইকেট পতনের পর মাঠে ফেরা ওয়েলচকে বোল্ড করে পূর্ণ করেন পাঁচ উইকেট। সিরিজে সমতা ফেরাতে চট্টগ্রামে আজ বড় দায়িত্ব ব্যাটারদের। সব শেষ যে ক’টি টেস্ট হেরেছে দল তার সবগুলোতেই ছিল বড় ধরনের ব্যাটিং ব্যর্থতা। এমনকি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে হারের কারণও নড়বড়ে ব্যাটিং। গতকাল জিম্বাবুয়ের শুরুটা ভালো ছিল। প্রথম দশ ওভারে গড়ে চারের বেশি রান করেন জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ও বেন কারেন। অষ্টম ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে স্লিপে কারেনের সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেন সাদমান ইসলাম। সিলেট টেস্টেও প্রথম স্লিপে একটি ক্যাচ নিতে পারেননি তিনি। পরে প্রান্ত বদলে নতুন স্পেলে বোলিংয়ে এসে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন তানজিম হাসান সাকিব। অভিষিক্ত এই পেসারের এক্সট্রা বাউন্স করা ডেলিভারিতে জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলার চেষ্টায় কট বিহাইন্ড হন বেনেট। আউট হওয়ার আগে করেন ৩৩ বলে ২১ রান। তিন নম্বরে নেমে ওয়ানডে মেজাজে ব্যাটিং শুরু করেন নিক ওয়েলচ। সেই সময় দারুণ খেলতে থাকা কারেন তাইজুলের শর্ট বলে পুল করার চেষ্টায় আউট হন। তার ব্যাট থেকেও আসে ২১ রান। এরপর শুরু হয় ওয়েলচ ও শন উইলিয়ামসের প্রতিরোধ জুটি। ওয়ানডে মেজাজে ২৯ বলে ২২ রান করে ফেলা ওয়েলচের ফিফটি করতে লাগে ১০৭ বল। তিন ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার দ্বিতীয় পঞ্চাশছোঁয়া ইনিংস। চা বিরতির আগে উইলিয়ামসও ফিফটি পূর্ণ করেন, ১১৪ বলে। দ্বিতীয় সেশনে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭২ রান যোগ করেন ওয়েলচ ও উইলিয়ামস। আউট না হলেও বেশ কয়েকবার পেশির টানে থামতে হয় দুই ব্যাটসম্যানের। শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে এক বল খেলার পর আবারও পেশির টান অনুভব করায় মাঠ ছেড়ে যান ওয়েলচ। ছন্দপতন হয় ২৩০ বলে ৯০ রানের জুটির। এর কিছুক্ষণ পর শুরু হয় সেই ঝড়ো হাওয়ার। নড়িয়ে দেয় ব্যাটসম্যানদের মনোযোগ। নাঈমের অফ স্টাম্পের বাইরের বল কাট করতে গিয়ে কট বিহাইন্ড হন ৫ রান করা ক্রেইগ আরভিন। নাঈমের বলেই পরে সুইপ খেলার চেষ্টায় ক্যাচ আউট হন উইলিয়ামস। ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন সাকিব। ৭ চার ও ১ ছক্কায় ১৬৭ বলে ৬৬ রান করেন উইলিয়ামস। এর পরের গল্পটা তাইজুলের। নতুন বল নিয়ে ওয়েলিংটন মাসাকাদজার কাছে ছক্কা হজম করেন তাইজুল। কিন্তু পরের বলে তিনি নিয়ে নেন প্রতিশোধ। এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন মাসাকাদজা। ঠিক পরের ডেলিভারিতে বোল্ড রিচার্ড এনগারাভা। মাত্র ৬ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে হুট করেই চাপে পড়ে যায় জিম্বাবুয়ে। তাদের বিপদ আরও বাড়ে অভিষিক্ত ভিনসেন্ট মাসেকেসার রান আউটে। অষ্টম উইকেট পড়ার পর আবার ব্যাটিংয়ে নামেন ওয়েলচ। দুই বলের বেশি অবশ্য টিকতে পারেননি। তাইজুলের বলে স্লগ করার চেষ্টায় বোল্ড হন তিনি।
