জামায়াত নেতার ছাত্রীদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, প্রতিবাদ মানববন্ধনেও হামলা

বাংলাদেশ শিরোনাম

মাদ্রাসা ছাত্রীদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত এক সুপারিনটেনডেন্টের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন চলাকালে জামায়াত কর্মীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও স্থানীয় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।



মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে ধর্মঘট ও মানববন্ধনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানায়। শিক্ষার্থীদের দাবি,মাদ্রাসা সুপারিনটেনডেন্ট দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করে আসছিলেন। অবশেষে সাহস করে কয়েকজন ছাত্রী বিষয়টি প্রকাশ করলে পুরো প্রতিষ্ঠানেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।



সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নিজেকে মাদ্রাসা ছাত্র পরিচয় দেওয়া মোহাম্মদ ইমরান অভিযোগ করছেন যে তাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের সময় জামায়াতপন্থী কয়েকজন এসে শিক্ষার্থীদের মারধর করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।ভিডিওতে ইমরান বলেন,আমরা শুধু প্রতিবাদ করছিলাম। কিন্তু জামায়াতের লোকজন এসে আমাদের ওপর হামলা করে। অনেক ছাত্র আহত হয়েছে।



স্থানীয়দের বক্তব্যেও এমন অভিযোগ উঠে এসেছে যে, প্রতিষ্ঠানটির সুপারিনটেনডেন্ট জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাই অভিযোগ ওঠার পরপরই তাকে রক্ষা করতে দলীয় কর্মীরা মাঠে নেমেছে।



মাদ্রাসার একাধিক ছাত্রী জানায়, অভিযোগ প্রকাশের পর তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। কিছু শিক্ষার্থী ভয় পাচ্ছে যে প্রভাবশালী মহল অভিযোগকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে অথবা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে।



একজন ছাত্রী বলেন,আমরা যা সহ্য করেছি, তা বলতেই ভয় লাগে। এখন আবার হুমকি পাচ্ছি হামলার। আমাদের সুরক্ষা দরকার।”একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন যে, ঘটনার পর প্রশাসনের ভূমিকা এখনো সন্তোষজনক নয়। তারা দ্রুত তদন্ত, সুস্পষ্ট ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।



স্থানীয় একজন অভিভাবক বলেন,মেয়েদের ওপর যৌন নির্যাতন হবে, আবার প্রতিবাদ করতে গেলে হামলার শিকার হতে হবে,এটা কোন সভ্য সমাজ  ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। যৌন নির্যাতন ও হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তবে এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার বা বরখাস্ত করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *