জামায়াতের ‘গুপ্ত গণতন্ত্রে আমির ডা.শফিকুর রহমান: জাহেদ উর রহমান

বাংলাদেশ রাজনীতি

জামায়াতে ইসলামীতে দীর্ঘদিন ধরে যে ‘অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র’ চর্চা করছে বলে দাবি করে দলটি,তাদের এই গণতন্ত্র আসলে এক ধরনের “গুপ্ত গণতন্ত্র” বলে মন্তব্য করেছেন লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান।

সোমবার (৩রা নভেম্বর) ডা.জাহেদ তার ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, সম্প্রতি দলটির আমির হিসেবে ডা.শফিকুর রহমানের পুনর্নির্বাচন প্রমাণ করেছে, জামায়াতের গণতন্ত্র কেবল মুখের বুলি, বাস্তবে তা সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ ও নাটকীয়। কয়েকটি গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, সারাদেশে রুকনদের (সদস্যদের) গোপন ব্যালটে ভোট নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কতজন ভোট দিয়েছেন, কত ভোট পেয়েছেন ডা.শফিক, বা তার প্রতিদ্বন্দ্বী কেউ ছিলেন কিনা—এসব কিছুই জনগণ জানে না। এমন নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক বলা যায় না। এটা ‘গুপ্ত গণতন্ত্র’ ছাড়া আর কিছু নয়।

তিনি মনে করেন, জামায়াতে ইসলামী যে গণতন্ত্রের দৃষ্টান্ত দেখাতে চায়,সেটি আসলে “চীনা ধাঁচের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি”। যেখানে নেতৃত্ব নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া দলের অভ্যন্তরে সীমাবদ্ধ এবং বাইরে কেউ কিছু জানে না। এ ধরনের লুকোচুরি গণতন্ত্রের মূল চেতনার পরিপন্থী।

এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, দলটি বহু বছর ধরে দাবি করে আসছে যে তাদের ভেতরে নির্বাচন হয়,সদস্যরা ভোট দেন। অথচ ১৯৫৬ সাল থেকে আজ পর্যন্ত মাত্র ছয়জন নেতা আমির হয়েছেন। অনেকে একটানা ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন। এটা গণতন্ত্র নয়, বরং এক ধরনের কৌশলগত ধারাবাহিক ক্ষমতা ধরে রাখার পদ্ধতি।

তিনি বলেন, যদি জামায়াত সত্যিই গণতন্ত্রের চর্চা করতে চায়,তাহলে তাদের উচিত ভোটের বিস্তারিত প্রকাশ করা, প্রার্থীদের নাম জানানো এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা। অন্যথায় তারা কেবল মুখোশ পরা একটি সংগঠন হিসেবে রয়ে যাবে।

জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, গণতন্ত্র মানে স্বচ্ছতা, প্রকাশ্যতা এবং জবাবদিহি। অথচ জামায়াতের সব কিছুই চলছে গোপনে, যেমন তাদের রাজনীতি, তেমনি তাদের নির্বাচনও। তাই এই ‘গুপ্ত গণতন্ত্র’ চর্চা বন্ধ করে দলটিকে খোলামেলা রাজনীতিতে ফিরতে হবে। একটি রাজনৈতিক দল যদি প্রকাশ্য রাজনৈতিক অঙ্গনে থাকতে চায়, তাহলে তাকে জনগণের কাছে স্বচ্ছ থাকতে হবে। না হলে সেই দল গণতন্ত্র নয়, ভণ্ডামির চর্চা করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *