তারিখ: ৫ জুলাই ২০২৫ | রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
দেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও সমঝোতার লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন-এর আলোচনায় কিছু বিষয়ে প্রাথমিক ঐকমত্য তৈরি হলেও বেশ কয়েকটি মৌলিক ইস্যুতে এখনও বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। সংবিধান সংশোধন থেকে শুরু করে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত ২০টির বেশি প্রস্তাব নিয়ে চলমান এই সংলাপে অংশ নিচ্ছে ৩৩টি রাজনৈতিক দল ও জোট।
সংলাপের বর্তমান অবস্থা
যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে:
- সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন: সংসদ সদস্যদের দলত্যাগের শাস্তিমূলক বিধান শিথিলের প্রস্তাব।
- সংসদীয় কমিটির সভাপতিত্ব: বিরোধী দলকে গুরুত্বপূর্ণ কমিটির দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত।
- নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণ: জনসংখ্যার ভিত্তিতে সমন্বয়।
- প্রেসিডেন্টের ক্ষমা প্রদর্শনের বিধান: সীমিত ক্ষমতা প্রস্তাব।
যেসব বিষয়ে আলোচনা চলছে:
- সাংবিধানিক নিয়োগ কমিটি: বিএনপির তীব্র আপত্তি (“সরকারের প্রভাব বাড়ানোর চক্রান্ত”)।
- দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ: উচ্চকক্ষের ক্ষমতা ও নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক।
- নারী আসনে সরাসরি নির্বাচন: সংখ্যা ও কোটা নির্ধারণে মতভেদ।
- প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল: সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমিতকরণ (বিএনপি শর্তযুক্ত সমর্থন দিয়েছে)।
যেসব বিষয় এখনও আলোচনায় আসেনি:
- জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রক্রিয়া
- সংবিধান সংশোধনের কাঠামো
- বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা
মূল বাধাসমূহ
- নিয়োগ কমিটি বিতর্ক:
- প্রস্তাবিত “সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ নিয়োগ কমিটি”কে বিএনপি “সরকারি দখলদারিত্বের হাতিয়ার” বলে অভিহিত করেছে।
- দলটির দাবি, এই কমিটি নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানে সরকারি প্রভাব বাড়াবে।
- দ্বিকক্ষ সংসদের জটিলতা:
- উচ্চকক্ষের ১০০ সদস্যের মধ্যে ৫০ জন আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ও ৫০ জন বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব নিয়ে তর্ক।
- বিএনপি ও জামায়াত সরাসরি নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে।
- সময়সীমার চাপ:
- কমিশনের লক্ষ্য ১৬ জুলাই (শহীদ আবু সাঈদের মৃত্যুবার্ষিকী) পর্যন্ত “জুলাই সনদ” চূড়ান্ত করা।
- তবে সহ-সভাপতি আলী রীয়াজ স্বীকার করেছেন, “অনীহা ও দ্বিধাদ্বন্দ্বের কারণে অগ্রগতি ধীর”।
দলগুলোর অবস্থান
- বিএনপি: সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, “জাতীয় স্বার্থে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা আছে, কিন্তু নিয়োগ কমিটি প্রস্তাব আমাদের জন্য অগ্রহণযোগ্য।”
- জামায়াতে ইসলামী: এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আশাবাদী, “জুলাইয়ের মধ্যে কিছু ইস্যুতে সমঝোতা সম্ভব।”
- এনডিএম: মোমিনুল আমিন অভিযোগ করেছেন, “কিছু দল ইচ্ছাকৃতভাবে আলোচনা জটিল করছে।”
পরবর্তী পদক্ষেপ
- নেপথ্যে আলোচনা: প্রভাবশালী দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সাথে ব্যক্তিগত বৈঠক।
- শিথিলকরণ: মতবিরোধী প্রস্তাবগুলোর কাঠামোতে নমনীয়তা আনা।
- বিকল্প প্রস্তাব: যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হবে না, সেগুলো “নোট অব ডিসেন্ট”-এর মাধ্যমে চিহ্নিত করা।
বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, “সংস্কারের গতি এখনই নির্ধারণ করবে আগামী নির্বাচনী পরিবেশ।”
- সাইফুল হক (বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি): “১০০% সমাধান সম্ভব নয়, কিন্তু ন্যূনতম সমঝোতা জরুরি।”
- ড. বদিউল আলম মজুমদার (ঐকমত্য কমিশন সদস্য): “আমরা বিকল্প উপায়েও ঐকমত্য খুঁজছি।”
