খবর ৫২ ডট কম প্রতিবেদন
প্রতিবেদক: বদরুল হক


ট্রেজারির প্রধান সচিব ড্যারেন জোনস বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির পর থেকে গ্লোবালাইশনের যুগ “শেষ” হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির আলোকে ট্রেজারির প্রধান সচিব ড্যারেন জোনস বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত নতুন শুল্ক নীতির প্রেক্ষিতে গ্লোবালাইজেশনের যুগ আসলেই শেষ হয়েছে। এই বিবৃতি আন্তর্জাতিক অর্থনীতির উপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতির প্রভাব নিয়ে ব্যাপক চিন্তা-চেতনার সূচনা করেছে।
ড্যারেন জোনস বলেন, “যে গ্লোবালাইজেশন প্রক্রিয়া দশকের পর দশক ধরে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক একীভূতকরণের মাধ্যমে বিস্তৃত হয়েছিল, সেটি আজ আর একইভাবে টিকে থাকতে পারছে না। বিশ্বের অর্থনৈতিক কেন্দ্রে যে পরিবর্তনগুলো ঘটছে, তা একটি নতুন যুগের সূচনা ঘটাচ্ছে।”
এই মন্তব্য আসছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত নতুন শুল্ক নীতির পটভূমিতে। এই নীতি অনেক দেশের উপর ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে এবং বিশ্ববাজারে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ধারা পরিবর্তন করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের শুল্ক নীতি গ্লোবালাইজেশনের ধারণাকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে এবং বিশ্বের অনেক দেশ এখন স্থানীয়করণের দিকে মনোনিবেশ করছে।
অনেক দেশ এখন নিজস্ব অর্থনীতিকে স্থানীয়করণের দিকে মনোনিবেশ করছে এবং বিদেশী নির্ভরশীলতা কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে পণ্য এবং পরিষেবার আদান-প্রদানে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
জোনস আরও বলেন, “এখন আমাদের দেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো স্থানীয় সম্পদের উপর নির্ভর করা এবং নিজস্ব অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা। গ্লোবালাইজেশনের যুগে আমরা যে সুবিধাগুলো পেয়েছি, তার পরিবর্তে এখন আমাদের নতুন উদ্যোগ নেওয়া দরকার।”
এই ঘোষণা অনেক অর্থনীতিবিদ এবং বিশ্লেষকের মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ মনে করছেন যে গ্লোবালাইজেশন শেষ না হলেও এর রূপ পাল্টে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে নতুন সুযোগ এবং চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসতে পারে।
এই পরিবর্তনের আলোকে দেশের নীতিনির্ধারকদের জন্য এখন একটি বড় দায়িত্ব রয়েছে—সেটি হলো নতুন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং জনগণের জন্য আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
খবর ৫২ ডট কম
