
মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও মানবিক সংকটে বিপর্যস্ত গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন আজ আন্তর্জাতিক এক অগ্রাধিকার বিষয়। চলমান ইসরাইলি আগ্রাসনে ধ্বংসস্তূপে পরিণত এই উপত্যকা পুনর্নির্মাণে দ্রুত ও কার্যকর সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে আরব লীগ। শনিবার (১৭ মে) ইরাকের বাগদাদে অনুষ্ঠিত আরব লীগের শীর্ষ সম্মেলনে নেতারা এক কণ্ঠে এই দাবি জানান। তারা বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং আঞ্চলিক-আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত দ্রুত অর্থনৈতিক সহায়তা নিশ্চিত করা, যাতে গাজা পুনর্গঠনে আরব লীগের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়।
সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি গাজার পরিস্থিতিকে “ইতিহাসের ভয়াবহতম গণহত্যা” হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি জানান, ইরাক আরব তহবিল গঠনের উদ্যোগকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানায় এবং গাজার জন্য ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দান করবে। একইসঙ্গে ইসরাইলি আগ্রাসনে ক্ষতিগ্রস্ত লেবাননের জন্যও ২০ মিলিয়ন ডলার অর্থ সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির যেকোনো পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আমরা দৃঢ়ভাবে অবস্থান নিচ্ছি এবং পশ্চিম তীর ও দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে চলমান আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডাব্লিউএ-কে আবার সক্রিয় করা এবং গাজা উপত্যকার মানুষের জীবন রক্ষায় কার্যকর আরব পদক্ষেপ গ্রহণ আজ জরুরি। এই সম্মেলনটি এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হলো, যখন এক দিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মধ্যপ্রাচ্য সফর শেষ করেছেন। ফলে এই আলোচনায় নতুন করে যুদ্ধবিরতির আশা এবং গাজায় ত্রাণ সহায়তা চালুর সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। গাজা পরিস্থিতির এই ভয়াবহ বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এখন সবচেয়ে জরুরি চ্যালেঞ্জ হলো—সহানুভূতিশীল ও কার্যকর সহযোগিতার মাধ্যমে এই মানবিক বিপর্যয় থেকে গাজাকে টেনে তোলা।
