গভর্নর হিসেবে ‘ব্যবসায়ী’ নিয়োগ নিয়ে তাসনিম জারার পাঁচ প্রশ্ন

বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে একজন সক্রিয় ব্যবসায়ী মো. মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষক ডা. তাসনিম জারা। তিনি তার ফেসবুক পোস্টে এই নিয়োগের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন।


তাসনিম জারা লেখেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের ভূমিকা মৌলিকভাবে আলাদা। সচিব সরকারের নীতি বাস্তবায়ন করেন, সরকার বদলালে সচিব বদলানো অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু গভর্নরের পদ স্বাধীন ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য গঠিত। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গভর্নর বদলানো তাই সচিবালয়ের রদবদলের চেয়ে ভিন্ন মাত্রার সিদ্ধান্ত।


বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে সরিয়ে একজন সক্রিয় ব্যবসায়ীকে নিয়োগ দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমার মনে হয় এই সিদ্ধান্তটার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হবে।”


তাসনিম জারার তুলে ধরা পাঁচ প্রশ্ন:

গভর্নরের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা: একজন সক্রিয় ব্যবসায়ীকে গভর্নর করলে ব্যাংকিং খাতে তার ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক স্বার্থের প্রভাব পড়বে না তো? গভর্নরের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কতটা অক্ষুণ্ণ থাকবে?


স্বার্থের সংঘাত: গভর্নরের পদে থেকে তিনি কি তার ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা (যেমন বিজিএমইএ, REHAB, DCCI ইত্যাদি) সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করবেন? নাকি কোনো না কোনোভাবে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হবে?


দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব: এই নিয়োগের ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন ও আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতা কীভাবে প্রভাবিত হবে? বিদেশি বিনিয়োগকারী বা আইএমএফের মতো সংস্থা কীভাবে দেখবে?


নীতি নির্ধারণে ভারসাম্য: গভর্নরের পদে অর্থনীতিবিদ বা ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞের পরিবর্তে ব্যবসায়ী নিয়োগের ফলে মুদ্রানীতি, রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা বা ব্যাংকিং সংস্কারে ব্যবসায়িক স্বার্থ প্রাধান্য পাবে না তো?


প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য ও স্বচ্ছতা: বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নর করা হলো। এতে প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের আস্থা কতটা প্রভাবিত হবে?

তাসনিম জারা তার পোস্টে উল্লেখ করেন, এই নিয়োগের ফলে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীলতা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক নীতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে—তা নিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।


এই পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে তার প্রশ্নগুলোকে যৌক্তিক বলে মনে করছেন, আবার কেউ কেউ নতুন গভর্নরের অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *