খামেনির জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান

আন্তর্জাতিক
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠান উপলক্ষে কয়েকদিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ও বিশাল জানাজার আয়োজন করছে দেশটির সরকার। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার পর ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতি জনগণের আনুগত্য এবং বিপ্লবী আদর্শের প্রতি সমর্থন প্রদর্শনের লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, সপ্তাহের শেষে তেহরানে শেষকৃত্য শুরু হবে। এরপর আগামী সপ্তাহে কোম ও মাশহাদে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালাতেও পৃথক শোক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

কোমের খতিব আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ সাঈদি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘শহীদ নেতা এবং অন্যান্য শহীদদের জানাজায় জনগণের ব্যাপক উপস্থিতি কার্যত ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পক্ষে আরেকটি গণভোটে পরিণত হবে।’

এ লক্ষ্য পূরণে সরকার দেশজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। লাখো সমর্থককে রাজধানী ও অন্যান্য শহরে আনার জন্য পরিবহন, আবাসন ও খাবারের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। হোটেলগুলোতে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে। স্কুল, মসজিদ ও ক্রীড়া কমপ্লেক্সগুলোকে অস্থায়ী আবাসন হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। বাস ও রেল নেটওয়ার্কও জানাজার কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।

খামেনির মৃত্যু এবং তার ছেলে মোজতবা খামেনির দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ৪৭ বছরের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

ইরানের ধর্মতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় খামেনি শুধু রাষ্ট্রপ্রধানই ছিলেন না, তিনি শিয়া ইসলামের দ্বাদশ ইমামের প্রতিনিধিও হিসেবে বিবেচিত হতেন। ফলে শত্রুপক্ষের হামলায় তার মৃত্যু শিয়া মতবাদের শহীদ ও শোকের ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে গেছে।

দেশজুড়ে কালো শোকের পতাকা টানানো হয়েছে এবং বিভিন্ন শোক অনুষ্ঠানে ইমাম হোসাইনের শাহাদাতের সঙ্গে খামেনির মৃত্যুর প্রতীকী তুলনা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে রাজধানী তেহরানে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সমর্থনে পোস্টারও টানানো শুরু হয়েছে। সেখানে প্রয়াত খামেনির ছবি এবং বিপ্লবের প্রতীক হিসেবে উঁচু করা মুষ্টিবদ্ধ হাতের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।

শুক্রবার রাশিয়া ও চীনসহ বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তা ও বিদেশি প্রতিনিধিরা শোক জানাবেন। শনিবার এক শোকযাত্রায় খামেনি ও তার স্ত্রী, মেয়ে, জামাতা এবং নাতনির মরদেহ তেহরানের একটি মসজিদে নেওয়া হবে।

সোমবার তেহরানে কেন্দ্রীয় শোকমিছিল শেষে মরদেহ কোমে নেওয়া হবে। মঙ্গলবার সেখানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর বুধবার ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় শোক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ইরান-সমর্থিত শিয়া গোষ্ঠীগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

এরপর বৃহস্পতিবার মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারের কাছে খামেনিকে দাফন করা হবে।

এদিকে সম্ভাব্য নতুন হামলার আশঙ্কায় তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের আকাশসীমায় সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালালে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *