খবর৫২ বিশেষ অনুসন্ধান
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার রাজনীতি ও প্রশাসন গত এক দশক ধরে আবুল কালাম আজাদ পরিবারের কর্তৃত্বে চলছে। আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় এই পরিবার স্থানীয়ভাবে একটি ‘রাজনৈতিক রাজবংশ’ গড়ে তুলেছে, যার সদস্যরা ইউপি চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তারা হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে।
ক্ষমতার ধারাবাহিকতা: পরিবারের সদস্যদের রাজনৈতিক উত্থান
- নুরুল ইসলাম: ১৯৯০-এর দশকে বরকামতা ইউপির ওয়ার্ড সদস্য থেকে ২০১৬ সালে ইউপি চেয়ারম্যান হন।
- আবুল কালাম আজাদ: ২০২১ সালে দেবিদ্বার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ সালে সংসদ সদস্য হন।
- মামুনুর রশিদ: ২০২৪ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে পরিবারের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করেন।
অভিযোগের তালিকা
- অর্থপাচার: আজাদ নামসর্বস্ব ‘ঢাকা গ্রুপ’ এর মাধ্যমে প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ।
- সহিংসতা: জুলাই-আগস্ট ২০২৩-এর গণ-অভ্যুত্থানে হামলা ও হত্যাচেষ্টার একাধিক মামলায় অভিযুক্ত।
- দলীয় নেতাদের উপর আক্রমণ: ২০২৩ সালে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনের গাড়িতে হামলার ঘটনায় আজাদকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
- নৈতিক অবক্ষয়: একাধিক নারীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক ও মিডিয়াকে টাকা দিয়ে খবর চাপা দেওয়ার অভিযোগ।
অবৈধ সম্পদের পাহাড়
- রাজধানীর গুলশান, বনানী ও উত্তরা এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লট।
- সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকে জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ নেওয়ার অভিযোগ।
- স্থানীয় ঠিকাদারি কাজ ও সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে সম্পদ বৃদ্ধি।
প্রশাসন ও দলীয় প্রতিক্রিয়া
- আওয়ামী লীগ: আজাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে পদত্যাগ করালেও, স্থানীয়ভাবে পরিবারটির প্রভাব অব্যাহত।
- আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী: একাধিক মামলা সত্ত্বেও আজাদ ও তার ভাই জামিনে মুক্ত।
- স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ: “এই পরিবারের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারে না। প্রশাসনও তাদের পক্ষে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
দেবিদ্বারের এই ঘটনা বাংলাদেশের স্থানীয় রাজনীতিতে ‘পরিবারতন্ত্র’ ও ‘অপরাধী-রাজনৈতিক সংযোগ’-এর একটি উদাহরণ। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বারবার ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি ঘোষণা করলেও, স্থানীয় পর্যায়ে এর প্রয়োগ দেখা যায় না।
গবেষণা: খবর৫২ অনুসন্ধানী টিম
সতর্কতা: এই প্রতিবেদনের তথ্য স্থানীয় সূত্র, দলিলপত্র ও সরকারি রেকর্ড থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান।
