খবর ৫২ ডেস্ক

নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। দলটির এমন কর্মসূচির পরিধি দিন দিন বাড়ছে। গত শুক্রবার রাজধানীর তেজগাঁও বাণিজ্যিক এলাকায় দলটির আয়োজিত মিছিলে হাজারের বেশি নেতাকর্মী অংশ নেন, যা এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি করে। এ পরিস্থিতিতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তৎপরতা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, রাজধানীর মতো সুরক্ষিত এলাকায় একটি নিষিদ্ধ দলের এত সংখ্যক নেতাকর্মীর মিছিল কীভাবে সম্ভব হচ্ছে?
এদিকে, মিছিল আয়োজন ও অর্থসহায়তা দেবার অভিযোগে সাবেক এক সংসদ সদস্যসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে তেজগাঁও নাবিস্কো এলাকায় ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের ব্যানারে একটি মিছিল বের হয়। এতে প্রায় হাজার খানেক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। একই দিন সকালে জিএমজি মোড় থেকে একদল লোক মিছিল শুরু করলে পুলিশ তা বন্ধ করে দেয় এবং তেজগাঁও কলেজের ছাত্রলীগের নিয়ামুল হাসান নামে একজনকে আটক করা হয়। দুপুরের মিছিলের সন্দেহে আরও চারজনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া ধানমন্ডি এলাকায়ও একটি মিছিলের খবর রয়েছে, যদিও পুলিশ এই তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি।
এর আগে, গত মঙ্গলবার ভোরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ বনানী ফ্লাইওভার এলাকায় একটি ঝটিকা মিছিল করে। গত ৩১ আগস্ট ধানমন্ডির ২৭ নম্বর সড়কে এবং তারও প্রায় এক সপ্তাহ আগে গুলিস্তানের বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। এভাবে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য স্থানে দলটির মিছিলের ঘটনা ঘটা সত্ত্বেও, এসব ঠেকাতে না পারায় গোয়ен্দা তৎপরতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
তেজগাঁও এলাকার এক বাসিন্দা সাইমুম হোসেন বলেন, “জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হয়ে দেখি আওয়ামী লীগের মিছিল চলছে। এ সময় অনেক নামাজি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। একটি নিষিদ্ধ দল এভাবে মিছিল করছে, গোয়েন্দারা কি বিষয়টি জানতেন না?”
অনেকের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের মিছিলের规模 দিন দিন বড় হচ্ছে এবং এ ক্ষেত্রে প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে।
তিব্বত মোড়ের এক প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিক বলেন, “হঠাৎ করে দেখি কয়েক হাজার লোক ‘শেখ হাসিনা’, ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দিয়ে তিব্বতের দিকে আসছে। দুপুর দুইটার দিকে তাদের এই মিছিল হয়।”
মিছিলে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, “ঘরে বসে থাকলেও নিরাপত্তা নেই। তাই, মিছিলের নির্দেশ পেয়ে আমরা রাস্তায় নেমেছি।”
এ বিষয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, “সকালে জিএমজি মোড় থেকে কিছু লোক মিছিল করার চেষ্টা করলে আমরা বাধা দিই এবং একজনকে আটক করি। দুপুরে তারা নাবিস্কো থেকে আবার বের হয়, আমরা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
ধানমন্ডিতে মিছিলের ঘটনায় আটক ৮
ধানমন্ডিতে ঝটিকা মিছিল ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড পরিকল্পনার অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাবেক এক সংসদ সদস্য সাদ্দাম হোসেন পাভেলসহ দলটির অঙ্গসংগঠনের আট নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
শুক্রবার ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ডিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন নীলফামারী-৩ আসনের সাবেক এমপি সাদ্দাম হোসেন পাভেল, পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তানজিল হোসেন (অভি), ছাত্রলীগের বাউফল উপজেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি একেএম খোরশেদ আলম, বাউফল উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান হাওলাদার, বংশাল থানার ৩২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লीগের দেলোয়ার হোসেন (বাবলু), উত্তরা পূর্ব থানার ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আল মামুন ভূঁইয়া, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য কায়কোবাদ ওসমানী এবং মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানার খিতিরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন।
ডিএমপির দাবি, গ্রেপ্তারকৃত সাবেক সংসদ সদস্য পাভেল আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল আয়োজন এবং অর্থায়নের পাশাপাশি অন্যান্য পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন।
পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) শাহাদাত হোসেন জানান, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের মিছিল যাতে না হতে পারে, সে জন্য রাজধানীসহ সারাদেশে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মিছিল সম্পূর্ণভাবে রোধ না করতে পারলেও, এআইজি শাহাদাত দাবি করেন যে গোয়েন্দা তৎপরতায় কোনো শৈথিল্য নেই। তার মতে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বেশ কিছু পরিকল্পনা ব্যাহত করা সম্ভব হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও যোগ করেন, ধানমন্ডি ও বনানীর সাম্প্রতিক ঘটনার পর মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের আরও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মিছিল রোধ করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহি করতে হবে বলেও জানান তিনি। এই নির্দেশনা মোতাবেক, পুলিশের টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং চেকপোস্টের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
