
নিজস্ব প্রতিবেদক,
আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৫
রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অনুষ্ঠিত বেঙ্গল ডেলটা কনফারেন্সের এক অধিবেশনে অর্থনৈতিক সংস্কার ও অলিগার্কদের ক্ষমতা সীমিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলেন, গত সরকারের আমলে দেশে যে অলিগার্ক শ্রেণির উদ্ভব হয়েছিল, তাদের নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে হবে এবং ব্যবসায় প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিসের আয়োজনে এই সম্মেলনের “অর্থনৈতিক কৌশল ও রাজনৈতিক বন্দোবস্ত” শীর্ষক সেশনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন লন্ডনের সোয়াস ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মুশতাক খান। তিনি বলেন, “নব্বইয়ের দশকে দেশে মধ্যবিত্ত শ্রেণি শক্তিশালী হয়েছিল, যা হাজার হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু গত ১৭ বছরে অলিগার্কদের উত্থানে কর্মসংস্থান বাড়েনি। তাদের কর্তৃত্ব ভাঙতে হবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান বলেন, “গত ১৫ বছরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে নিয়ে গার্মেন্টস শিল্পের একটি গোষ্ঠী সুবিধা আদায় করেছে। এখন সংস্কারের demand রয়েছে, কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর আগ্রহ স্পষ্ট নয়।”
অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, “এখন নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের সময়। উৎপাদনশীল বুর্জোয়া শ্রেণি গড়ে তুলতে হবে, যারা লুণ্ঠন নয়, উদ্ভাবনে নিয়োজিত হবে।”
ইউরোপীয় ইউনিয়ন চেম্বার অব কমার্সের চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ বলেন, “অলিগার্করা অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এলডিসি উত্তরণে জোরালো সংস্কার প্রয়োজন।”
ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিন বলেন, “স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির কাঠামো তৈরি করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।”
দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে অর্থনৈতিক সংস্কার, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
