
যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম কমাতে খুচরা বিক্রেতাদের প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, অবিলম্বে জ্বালানির দাম কমাতে হবে, অন্যথায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বড় ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হতে পারে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, পেট্রোল বিক্রেতাদের এখনই দাম কমানোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অজুহাত গ্রহণ করা হবে না।
.
তিনি আরও বলেন, প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম প্রায় ২ দশমিক ৫০ ডলারে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ শুরু করা উচিত। তার দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও অনেক খুচরা বিক্রেতা সেই সুবিধা ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে না।
.
ট্রাম্পের বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে এসেছে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রসঙ্গ। তিনি রাজ্যটির ওপর আরোপিত জ্বালানি কর কমানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, খুব শিগগিরই এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে তেলের মূল্যের চেয়েও করের পরিমাণ বেশি হয়ে যাবে।
তার ভাষায়, ক্যালিফোর্নিয়ার জনগণ অযৌক্তিক করনীতি এবং রাজ্য সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তিনি এ পরিস্থিতিকে অগ্রহণযোগ্য বলেও মন্তব্য করেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্পের নীতির সমালোচক হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশনীতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং আগামী দুই দশকের মধ্যে কার্বন-নিরপেক্ষ বিদ্যুৎব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং ইরানকে ঘিরে সামরিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারেও পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে। পাশাপাশি অতীতে পরিবেশগত দুর্ঘটনার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ক্যালিফোর্নিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন পুনরায় চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প প্রধান তেল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন। তার অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও সেই অনুপাতে পাম্প পর্যায়ে দাম কমানো হচ্ছে না এবং এর মাধ্যমে ভোক্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে।
ট্রাম্প বলেন, বড় তেল কোম্পানিগুলো কম দামে তেল কিনলেও সাধারণ মানুষের কাছে সেই সুবিধা পৌঁছে দিচ্ছে না। এজন্য তিনি বিচার বিভাগকে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জ্বালানির দাম কমানো ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে। তবে অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার কারণে জ্বালানির বাজারে দীর্ঘমেয়াদি চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা
