যুক্তরাষ্ট্রে প্লেগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় দুই দশকে প্রথম ব্যক্তির মৃত্যু

আন্তর্জাতিক

প্লেগে মৃত্যুবরণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের এক বাসিন্দা। দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে এ তথ্য। বলা হয়েছে, ২০০৭ সালের পর প্রথম কোনো ব্যক্তির প্লেগে মৃত্যু হয়েছে। চতুর্থ শতাব্দীতে প্লেগের ভয়াবহতার জন্য ইউরোপে এই রোগটি ‘ব্ল্যাক ডেথ’ নামে পরিচিতি পায়। এতে ইউরোপের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই প্রাণ হারান। রোগটি মোকাবিলায় ইউরোপের দেশগুলোর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। তবে বর্তমানে এই রোগের ক্ষেত্রে আগের মতো আতঙ্ক বা ঝুঁকি নেই বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। তারা বলছেন, অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের মাধ্যমে এই রোগের সমাধান করা সম্ভব। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। 

এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল জানিয়েছে, দেশটিতে প্রতিবছর গড়ে অন্তত ৭ জনের শরীরে এই রোগের আলামত শনাক্ত হয়েছে। সুতরাং জনগণের জন্য এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তেমন একটা নেই। 
মৃতের পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি সমবেদনা ও শোক জানিয়েছেন কোকোনিনো কাউন্টি বোর্ডের সুপারভাইজার্সের চেয়ারম্যান প্যাটরিক হর্সটম্যান। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, তাদের এই কঠিন সময়ে আমরা তাদের স্মরণে রাখছি। পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি স্বাস্থ্য বিভাগ। 

নিউমোনিক প্লেগ হল ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট একধরনের গুরুতর পর্যায়। যা মানবদেহের ফুসফুসকে আক্রান্ত করে। বলা প্রয়োজন প্লেগের বিভিন্ন ধরন রয়েছে। যেমন বুবোনিক প্লেগ। সাধারণত মানবদেহ এই সংক্রমনেই বেশি আক্রান্ত হয়। মাছি বা উড়ন্ত পোকামাকড়ের দ্বারা এই ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। প্লেগের আরেকটি ধরন হল নিউমোনিক। যেটি মানবদেহের ফুসফুসকে আক্রান্ত করে। সাধারণত এই ধরন খুব বিরল। তবে এতে কেউ আক্রান্ত হলে তাকে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *