মওদুদ আহমেদ, লন্ডন :

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে ক্রমবর্ধমান জটিলতা এবং বিভিন্ন পক্ষ থেকে পদত্যাগের দাবির মুখে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য না থাকলে পদত্যাগের কথা গুরুত্ব সহকারে ভাবছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়েছে । তিনি ছাত্রনেতাদের সংযত হতে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে বলেছেন, যা এর আগে তাদের আইন-শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ড বা সরকারি অফিস দখলের মতো কাজের সময় তিনি বলেননি ।
বর্তমানে বেশ কয়েকজন উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে। বিএনপির নেতা ইশরাক হোসেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুই ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং মাহফুজ আলমের পদত্যাগ দাবি করছেন । অন্যদিকে, নতুন ছাত্র-গঠিত রাজনৈতিক দল এনসিপি অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, শিক্ষা/পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ এবং আসিফ নজরুলের পদত্যাগ দাবি করেছে এই বলে যে তারা একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান তারেক রহমানের নাগরিকত্ব নিয়ে মন্তব্য করার পর বিএনপি তারও পদত্যাগ দাবি করেছে । এই ঘটনাগুলো এনসিপি এবং বিএনপির মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে ।
এদিকে, ভিপি নুরুল হক নুরের দল গণঅধিকার পরিষদ স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া কর্তৃক ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে নিযুক্ত একজন প্রশাসকের অপসারণ দাবি করছে |
সূত্রগুলো বলছে যে, ডক্টর ইউনুসের ইচ্ছা সত্ত্বেও এই বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য এবং সংযম বজায় থাকার সম্ভাবনা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে। এনসিপি নেতা নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী একটি সংবাদপত্রে লিখেছেন যে, আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং মাহফুজ আলম পদত্যাগ করবেন না কারণ তারাই ইউনুস সরকারকে বৈধতা দিয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেছেন যে, বিএনপি জোর করে আদালত থেকে তারেক রহমানের ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা এবং দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলাগুলো উঠিয়ে নিয়েছে । এনসিপি যখন তারেক রহমানকে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জড়িত এবং দুর্নীতিতে জড়িত বলে মনে করছে, তখন ডক্টর ইউনুসের দল (বিভিন্ন মহল থেকে এনসিপিকে ডক্টর ইউনুসের দল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে) এবং বিএনপির মধ্যে কোনো ঐক্য সম্ভব কিনা তা স্পষ্ট নয় ।
এই চ্যালেঞ্জগুলো সত্ত্বেও ডক্টর ইউনুসকে সহজে হাল ছাড়ার মতো ব্যক্তি হিসেবে দেখা যাচ্ছেনা। তিনি পূর্বের প্রস্তাবিত সময়ের চেয়ে দীর্ঘ মেয়াদের জন্য প্রধান উপদেষ্টা থাকতে চান, যা ২০০৮ সালে তিনি এই দায়িত্ব না নেওয়ার একটি প্রধান কারণ ছিল। ডক্টর ইউনুসকে পাঁচ বছরের জন্য প্রধান উপদেষ্টা রাখার দাবিতে একটি সমাবেশ করার পরিকল্পনা চলছে । সেখানে এনসিপি, জামায়াত-শিবির, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং গণঅধিকার পরিষদের কর্মীদের সংগঠিত করার চেষ্টা চলছে । বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিএনপি এই সমাবেশে যোগ দেবে কিনা তা একটি প্রশ্ন ।
