
২০০৯ সালের পিলখানায় বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) সদর দপ্তরে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড ছিল দেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। সেই ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. রেজাউল করিমকে দীর্ঘ ১৫ বছর পর গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় বিডিআরের সদর দপ্তরে সংঘটিত ভয়াবহ বিদ্রোহে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। সেই ঘটনায় দায়ের হয় দুটি মামলা—একটি হত্যা মামলা, অন্যটি বিস্ফোরক আইনে। হত্যা মামলায় ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারিক আদালতে রায় হয়। এতে ১৫২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনের যাবজ্জীবন, এবং আরও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। হাইকোর্টে আপিলে ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর আরও ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। তবুও অনেক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার এড়িয়ে ছিলেন, তাদের মধ্যেই একজন ছিলেন রেজাউল করিম।
রোববার (১১ মে) র্যাবের একটি বিশেষ দল চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। রেজাউল করিম পটিয়া উপজেলার ডেংগা পাড়ার বাসিন্দা, এবং সে সময় বিডিআরের একজন সিপাহি ছিলেন। র্যাবের চট্টগ্রাম শাখার সিনিয়র সহকারী পরিচালক এ আর এম মোজাফফর হোসেন জানান, বিশেষ অভিযানে তাকে ধরা হয় এবং আইনি প্রক্রিয়ার জন্য পটিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মামলার আপিল পর্যায়ে এখনো শুনানি চলমান, যেখানে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের করা মোট ৩০০-এর বেশি আপিল এখনো বিচারাধীন। শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে এ হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তের দাবি উঠলে, গত ২৪ ডিসেম্বর সরকার অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ল ম ফজলুর রহমানকে প্রধান করে একটি কমিশন গঠন করে, যাকে ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
