হেলিকপ্টার থেকে গুলি ও ব্লক রেইডের পরিকল্পনা হতো তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় : সাবেক আইজিপি

জাতীয় শিরোনাম

জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার, হেলিকপ্টার থেকে গুলি ও ব্লক রেইডের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে নেয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। আদালতে তার দেয়া জবানবন্দির নথিতে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

গত মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) আদালত থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

জানা যায়, আন্দোলন দমনে লেথাল উইপেন বা মারণাস্ত্র ব্যবহারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান হাবিব ও ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ অতিউৎসাহী ছিলেন বলেও জবানবন্দিতে জানিয়েছেন সাবেক এই আইজিপি।

গত ২৪ মার্চ ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি মামলায় দেওয়া ৫ পৃষ্ঠার জবানবন্দিতে সাবেক আইজিপি মামুন এসব তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগে থেকেই ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে একাধিক পর্যায়ে কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছিল। ১৯ জুলাই থেকে প্রতিরাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ধানমন্ডির বাসায় গোপন বৈঠক হতো, যেখানে দুজন সচিব, র‌্যাবের মহাপরিচালক, ডিবির হারুন অর রশীদ, এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম, এনটিএমসির জিয়াউল আহসানসহ গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকতেন।

সাবেক আইজিপি মামুন জবানবন্দিতে বলেন, ‘এক পর্যায়ে কোর কমিটির বৈঠকে আন্দোলনের ছয়জন সমন্বয়ককে আটক করার সিদ্ধান্ত হয়। ডিবির কার্যালয়ে নিয়ে তাদের মানসিকভাবে চাপ দিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহারে বিবৃতি দিতে বাধ্য করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আন্দোলন প্রবণ এলাকায় ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরিতে হেলিকপ্টার থেকে গুলি ছোঁড়ার পরিকল্পনা করা হয়। এটি ছিল পুরোপুরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছিলেন, লেথাল উইপন ব্যবহারে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ রয়েছে।’

সাবেক আইজিপি আরও অভিযোগ করেন, ‘ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান ও ডিবির সাবেক প্রধান হারুন অর রশীদ লেথাল উইপন ব্যবহারে অতিউৎসাহী ছিলেন। রাজনৈতিক নির্দেশ বাস্তবায়নে এই দুজন অগ্রণী ভূমিকা পালন করতেন।’

এর আগে, গত ১০ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় স্বীকার করে নেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। সকল দোষ স্বীকার সাবেক এই পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেন, আমি এ মামলার বিষয়ে বিস্তারিত ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরতে চাই। এরপর এই মামলায় রাজসাক্ষী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন তিনি। পরে ট্রাইব্যুনাল এটি মঞ্জুর করেন। পাশাপাশি কারাগারে তাকে নিরাপত্তার জন্য আলাদা কক্ষে রাখার নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জবানবন্দিতে তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচন, গুম, খুন, এবং আন্দোলন দমনে গৃহীত কঠোর পদক্ষেপ নিয়েও বক্তব্য দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *