বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির পক্ষ থেকে দৃঢ় অবস্থান
লন্ডনে বৃটিশ অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক প্রফেসর ডাক্তার এ. জে. এম. জাহিদ হোসেন গণহত্যাকারীদের বিচারে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি “বাংলাদেশের গণতন্ত্র, নির্বাচন ও রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা” শীর্ষক সেমিনারে “কি-নোট স্পিকার” হিসেবে যোগ দিয়ে বলেন, পতিত স্বৈরাচার ও তার দোসরদের সহ সকল গণহত্যাকারীদের বিচার অবশ্যই হওয়া উচিত।
ডাক্তার জাহিদ হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, আগামীর প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দ্রুত সুস্পষ্ট নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানানো হচ্ছে। তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা ও বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের ১৯ দফার মাধ্যমে জাতির গণতান্ত্রিক মুক্তি নিশ্চিত করা হয়েছিল, এবং বেগম খালেদা জিয়া দেশকে গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করে গেছেন। বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৩১ দফার মাধ্যমে দেশের জন্য একটি গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ডাক্তার জাহিদ হোসেন বলেন, দেশের সকল সংকট নিরসনে একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচনের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দাবি করা হচ্ছে।
সেমিনারে উপস্থিত বৃটিশ বিএনপির সভাপতি ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম. এ. মালিক বলেন, জনগণের জন্য একটি গণতান্ত্রিক সরকার ফিরিয়ে আনতে বিএনপি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চায়। তবে নির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সবাই সহযোগিতা করতে চায়।
এছাড়াও বৃটিশ সাবেক এমপি সাইমন ডানস্ক বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র বিগত দিনগুলোতে ভঙ্গুর ছিল। ৫ই আগস্টের পর গণতন্ত্রের জন্য নতুন করে আশা সঞ্চার হয়েছে। তবে এর জন্য দ্রুত একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন প্রয়োজন। তিনি আশা করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দ্রুত একটি নির্বাচনের আয়োজন করবে যাতে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা যায়।
বৃটিশ পার্লামেন্টের হাউস অফ কমন্সের কমিউনিটি হল রুমে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে বৃটিশ এমপিসহ বৃটিশ বাংলাদেশী নানা শ্রেণী ও পেশার বিশ্লেষকরা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজস্ব মতামত তুলে ধরেন। সেমিনারটি লর্ড এলেক্স কার্লাইল কেসি সিবিই’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারের অংশগ্রহণকারীরা একযোগে দাবি জানান, বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দ্রুত একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। এর মাধ্যমেই দেশের জনগণের আশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা সম্ভব হবে।
