
১ উইকেটে ১০০ রান, সেখান থেকে ১০৫ রানে ৮ উইকেট। অবিশ্বাস্য কিছুই ঘটলো কলম্বোতে, অকল্পনীয়ভাবে ম্যাচ থেকে ছিটকে গেলো বাংলাদেশ। বৃথা গেল তামিম-জাকেরের লড়াই।
তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে আজ বুধবার শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। তবে ম্যাচটা জিততে পারেনি টাইগাররা, হেরে গেছে ৭৭ রানে। তাতে সিরিজে ১-০ তে পিছিয়ে গেল সফরকারীরা।
অথচ জয়ের পথেই ছিল বাংলাদেশ। জয়ের জন্য ভিত গড়ে দেন বোলাররাই, তাসকিন-তানজিম জুটিতে মাত্র ২৪৪ রানেই গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। রান প্রসবা প্রেমাদাসায় যা সহজ লক্ষ্যই বটে।
সহজ লক্ষ্য আরো সহজ করে দেন তানজিদ তামিম। বলের সাথে পাল্লা দিয়ে রান করতে থাকেন তিনি। তুলে নেন ফিফটিও। নাজমুল হোসেন শান্তর সাথে গড়েন দারুণ এক জুটি।
দু’জনে মিলে দলকে পৌঁছে দেন তিন অংকে। তবে তখনই ফিরতে ফেরেন শান্তকে। ৭১ বলে ৭১ রানের জুটি ভেঙে থামেন রান আউট হয়ে। শেষ হয় তার ২৬ বলে ২৫ রানের ইনিংস।
এরপরই শুরু হয় বিপর্যয়। চারে নেমে ৪ বল খেলেই হাসারাঙ্গার ফাঁদে পড়েন লিটন দাস, খুলতে পারেননি রানের খাতা। একই ওভারে থিতু হওয়া তামিমকেও ফেরান হাসারাঙ্গা।
কুশল মেন্ডিসের দারুণ ক্যাচে আটকা পড়েন তামিম। তার সুন্দর ইনিংসটা শেষ হয় ৯ চার ১ ছক্কায় ৬১ বলে ৬২ রানে। সেই ধাক্কা সামলে উঠার আগেই এবার উইকেট তুলে নেন কামিন্দু মেন্ডিস।
তাওহীদ হৃদয়কে কামিন্দু ফেরান ৪ বলে ১ রানেই। আর ২০তম ওভারে ফের বোলিংয়ে এসে মেহেদী মিরাজকে তুলে নেন হাসারাঙ্গা। রানের খাতা খুলতে পারেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক।
এরপর জোড়া আঘাত আনেন কামিন্দু। তানজিদ তামিম ১ ও তাসকিন আহমেদকে ফেরালেন ০ রানে। মাত্র ২৮ বলের মাঝে মাত্র ৫ রানের বিনিময়ে ৭ উইকেট হারিয়ে হারের দুয়ারে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
দ্রুত ৭ উইকেট হারিয়ে লজ্জার এক বিশ্বরেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ। ওয়ানডেতে এত কম রানে এর আগে দ্বিতীয় থেকে অষ্টম উইকেট হারায়নি কোনো দল। আগের রেকর্ড ৮ রান, যুক্তরাষ্ট্রের।
এদিকে হারের দুয়ার থেকে একাই লড়াই চালিয়ে যান জাকের আলি। শেষ দুই উইকেটে তানভীর ও মোস্তাফিজকে নিয়ে যোগ করেন ৪২ রান। যেখানে তানভীর ৫ রান করলেও রানের খাতা খুলা হয়নি মোস্তাফিজের।
এর মাঝেই ফিফটি তুলে নেন জাকের। ৫৮ বলে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি পূর্ণ করলেন তিনি। ৩৫.৪ ওভারে ১৬৭ রানে তার বিদায়েই অবশ্য শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। জাকের করেন ৬৪ বলে ৫১ রান।
শ্রীলঙ্কার পক্ষে হাসারাঙ্গা একাই নেন ৪ উইকেট। আর দুই হাতে বোলিং করা কামিন্দু মেন্ডিসের শিকার ৩টি উইকেট।
এর আগে অবশ্য বল হাতে দিনের শুরুতে লঙ্কানদের চেপে ধরে বাংলাদেশ, গুটিয়ে দেয় ৪৯.২ ওভারে ২৪৪ রানে। তবে একপ্রান্ত আগলে দারুণ এক সেঞ্চুরি করেন চারিথ আসালাঙ্কা।
এদিন উদ্বোধনী জুটি ভাঙতে সময় নেয়নি সফরকারীরা। চতুর্থ ওভারেই এসেছে উদযাপনের উপলক্ষ্য। উইকেট এনে দেন তানজিম সাকিব। চতুর্থ ওভারেই ফেরান দারুণ ছন্দে থাকা পাথুম নিশানকাকে।
টেস্ট সিরিজে জোড়া সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটারকে রানের খাতাই খুলতে দেননি সাকিব। এরপর জোড়া আঘাত করেন তাসকিন। নিশান মাদুষ্কাকে ৬ ও কামিন্দু মেন্ডিসকে ফেরান ০ রানে। ২৯ রানে ৩ উইকেট হারায় স্বাগতিকেরা।
কুশল মেন্ডিস চতুর্থ উইকেট জুটিতে আসালাঙ্কাকে নিয়ে যোগ করেন আরো ৬০ রান। রান করছিলেন দ্রুত গতিতে। তবে থামতে হয় ৪০ বলে ৪৩ রানে। তাকে ফেরান অভিষিক্ত তানভীর ইসলাম।
৯৭ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর ১৫৩ রানে ৫ম উইকেট হারায় লঙ্কানরা। এবার উইকেট পান নাজমুল হোসেন শান্ত। যা আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে তার দ্বিতীয় উইকেট। ফেরান ৪০ বলে ২৯ করা জানিথ লিয়ানগেকে।
এর মাঝেই অবশ্য ফিফটি তুলে নেন আসালাঙ্কা। ৬১ বলে পৌঁছান মাইলফলকে। এরপর মিলন রত্নানায়েকের সাথে মিলে ছুটতে থাকেন শতকের দিকে। ৩৯ রানের জুটি ভাঙেন সাকিব। মিলনকে ফেরান ২২ রানে।
ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাকে নিয়ে দলকে দুই শ’ রানে পৌঁছান আসালাঙ্কা। গড়ে তুলেন ৩৪ বলে ৩৪ রানের জুটি। তবে ৪৬তম ওভারে বোলিংয়ে এসে প্রথম বলেই হাসারাঙ্গাকে ফেরান ২২ রানে। ৪ বল পর তার শিকার থিকসানাও (১)।
৪৯তম ওভারে এসে সেঞ্চুরি তুলে নেন আসালাঙ্কা। ১১৭ বলে ওয়ানডেতে পঞ্চমবারের মতো পৌঁছান তিন অংকের ঘরে। শেষ ওভারের প্রথম নলে তানজিম সাকিবের শিকার হয়ে ফেরেন ১২৩ বলে ১০৬ রান করে।
পরের বলেই ইসহান মালিঙ্গা রান আউট হলে শেষ হয় শ্রীলঙ্কার ইনিংস। শেষ ৩৪ বলে কোনো বাউন্ডারি হাঁকাতে পারেনি স্বাগতিকেরা। তাসকিন ৪, তানজিম ৩ ও নাজমুল আর তানভীর পেয়েছেন একটি করে উইকেট।
