স্মরণে শহীদ জিয়া

জাতীয় শিরোনাম

আজ জিয়াউর রহমানের ৪৪ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে

খবর ৫২: ৩0শে মে, বাংলাদেশের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি শহিদ জিয়াউর রহমানের (বীর উত্তম) ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী। ১৯৩৬ সালের ১৯শে জানুয়ারি বগুড়ার বাগবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণকারী জিয়াউর রহমান দেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন পর্যন্ত ।

জিয়াউর রহমানের যাত্রা শুরু হয়েছিল সামরিক বাহিনীতে তাঁর উজ্জ্বল কর্মজীবন দিয়ে। কলকাতা হেয়ার স্কুল এবং করাচি একাডেমি থেকে কৃতিত্বের সাথে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার পর, তিনি ১৯৫৩ সালে কাকুল পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে যোগদান করেন । তিনি একজন সুদক্ষ প্যারাট্রুপার ও কমান্ডো হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং স্পেশাল ইন্টেলিজেন্স কোর্সে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে কমান্ডার হিসেবে খেমকারান সেক্টরে তিনি অসীম বীরত্বের পরিচয় দেন এবং এই বীরত্বের জন্য হিলাল-ই-জুরাত খেতাবে ভূষিত হন । তিনি পশ্চিম জার্মানিতে অ্যাডভান্সড মিলিটারি অ্যান্ড কমান্ড ট্রেনিং কোর্সে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেন এবং কয়েক মাস ব্রিটিশ আর্মির সঙ্গেও কাজ করেন ।

ইতিহাসের গতিপথ উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয় ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ, যখন জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন, যা বাংলাদেশ যুদ্ধের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচনা করে। মুলতঃ শহীদ জিয়াউর রহমানের ঘোষণার পর মুক্তিকামী বাংগালী সংগ্রামে ঝাপিয়ে পরে। ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল তিনি ১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার নিযুক্ত হন এবং চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, রাঙ্গামাটি, মিরসরাই, রামগড়, ফেনী প্রভৃতি স্থানে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করেন। জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত তিনি যুগপৎ ১১ নম্বর সেক্টরের ও জেড-ফোর্সের কমান্ডার হিসেবে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে রাষ্ট্রীয় বীর উত্তম খেতাব উপাধি পান । তিনি প্রথম সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করেন এবং পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলেন । রণনায়ক হিসেবে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের আপামর জনতার কাছে সমাদৃত ও স্বীকৃত ।

সামরিক অর্জনের বাইরে, জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবনে তিনি ব্যাপকভাবে সম্মানিত ছিলেন । শেখ মুজিবের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একদলীয় শাসন রহিতকরণের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে পুনরায় প্রতিষ্ঠার জন্য এবং অর্থনীতি পুনর্নির্মাণ করার জন্য অর্থনৈতিক সংস্কার গ্রহণের জন্য জিয়াউর রহমানকে কৃতিত্ব দেয়া হয় । তাঁর ধর্মপরায়ন ইসলামিক মনোভাবের কারণে দেশের জনগণ তাঁকে সৎ শাসক হিসাবে অত্যন্ত ভালোবাসতেন।

১৯৭৭ সালের ২১শে এপ্রিল জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন । দায়িত্ব গ্রহণের ২৪ ঘন্টারও কম সময়ে, জিয়াউর তাঁর শাসন সম্পর্কে জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে একটি আস্থা গণভোট করার ঘোষণা দেন। সে গণভোটে জিয়াউর রহমান ৯৮.৮৭% ভোট পেয়েছিলেন । পরের বছর তিনি একটি জনপ্রিয় ভোটের ঘোষণা দেন এবং ১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একজন যুদ্ধ-নায়ক প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন প্রতিযোগিতায় যোগ দিয়ে ৭৭% ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর সময়কালে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ধারণা প্রবর্তন করেন এবং দেশের অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপন করেন । তিনি প্রতিরক্ষার জন্য শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গঠনে মনোযোগ দেন । এছাড়াও তিনি খাল খনন, গ্রাম সরকার, কৃষির উন্নয়ন, গণশিক্ষা, ১৯ দফা সহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে রাষ্ট্রের একটি গণচরিত্র গঠন , জনজীবনে নিয়মানুবর্তিতা ফিরিয়ে আনা, দক্ষ ও কৌশলী আমলাতন্ত্র গড়ে তোলার উদ্যোগ, বেকারত্ব হ্রাস করা, শিল্পকারখানায় উৎপাদনের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, মেয়েদের স্কুল ফুটবল শুরু করা, জাতীয় ক্রিকেট দল গঠন করা, চলচ্চিত্রে অনুদান প্রথা চালু করা, এবং একুশে ও স্বাধীনতা পদক প্রবর্তন করার মতো উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

তাঁর উন্নয়ন কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল তাঁর ১৯ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও জাতি গঠন কাজে বাংলাদেশের নারীদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া। এই কর্মসূচির ১১ নম্বর দফায় নারীদের যথাযোগ্য মর্যাদা নিশ্চিত করে এবং সমাজে তাদের যোগ্য স্থানে প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়। নারীর কল্যাণ ও তাঁদের অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের অধীনে একটি নারী বিষয়ক দফতর প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা পরে ১৯৭৮ সালে ‘মহিলা বিষয়ক’ একটি স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয়ে উন্নীত করা হয়।

জিয়াউর রহমান শিক্ষাকেও অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন, স্বাধীন দেশের উপযোগী এবং উৎপাদনমূখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনে বিশ্বাসী ছিলেন। ১৯৭৮ সালে ঢাকায় একটি “জাতীয় শিক্ষা ওয়ার্কশপ” আয়োজন করেন, যেখানে সারাদেশ থেকে হাজার হাজার শিক্ষাকর্মী এবং শিক্ষা বিশেষজ্ঞগণ উপস্থিত ছিলেন। তিনি প্রতিটি শিশুকে স্কুলে নেওয়ার জন্য বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। দেশের প্রতিটি থানায় একটি করে গণগ্রন্থাগার ও মিলনায়তন প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। তিনি বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষাকে “জাতির জন্য কল্যাণকর” বলে আখ্যায়িত করেছিলেন , এ কারণেই তিনি ১৯৭৬ সালে “জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যা পরিষদ” গঠন করেন। গ্রামীণ ও পল্লী উন্নয়নে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যার ব্যাপক প্রয়োগ ও ব্যবহার দরকার বলে মনে করতেন এবং তাঁর সরকার ‘পল্লী প্রযুক্তি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান’ গড়ে তুলেছিল। শিশুদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৭৬ সালে ‘বাংলাদেশ শিশু একাডেমি’ প্রতিষ্ঠা করেন । ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নের জন্য ‘বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড’ প্রতিষ্ঠা করেন। বয়স্ক নিরক্ষরদের অক্ষরজ্ঞান দেওয়ার জন্য ১৯৮০ সালে ‘গণশিক্ষা’ কার্যক্রম চালু করে ৪০ লক্ষের অধিক মানুষকে অক্ষরজ্ঞান লাভে সহায়তা করেন। নারী শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সরকারি-বেসরকারি খাতে চাকরির শূন্য পদে নারীদের জন্য শতকরা ১০ শতাংশ এবং মেডিক্যাল কলেজসমূহের ২০ শতাংশ আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেন। নারী পুলিশ সদস্য, আনসার ও গ্রাম সরকার প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নারীদের নিয়োগের উদ্যোগ তিনি প্রথম চালু করেছিলেন।

তাঁর চার বছরের শাসন আমলে শিক্ষা ক্ষেত্রে এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তাঁর অবদান সাফল্যমণ্ডিত। সকল দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং জাতীয় সংসদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়। বিচার বিভাগ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়া হয় । সাংবাদিকদের দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রকাশের জন্য উৎসাহিত করেন এবং দক্ষ সাংবাদিক সৃষ্টির লক্ষ্যে বিদেশ থেকে সাংবাদিক এনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন । ১৯৭৭ সালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের নিজস্ব জায়গা হিসেবে বরাদ্দ দেন এবং নতুন ভবন নির্মাণ করেন। মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার অন্যতম নিদর্শনস্বরূপ তিনি রাষ্ট্রীয় সম্মান হিসেবে ‘একুশে পদক’ প্রদান প্রবর্তন করেন। তাঁর সময়ে কৃষি বিপ্লব, গণশিক্ষা বিপ্লব ও শিল্প উৎপাদনে বিপ্লব সাধিত হয়।

সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে স্বেচ্ছাশ্রম ও সরকারি সহায়তার সমন্বয় ঘটিয়ে ৪০০০ এর অধিক খাল খনন ও পুনর্খনন করেন। গ্রামাঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা প্রদান ও গ্রামোন্নয়ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) গঠন করা হয়। তাঁর শাসন আমলে হাজার হাজার মাইল রাস্তা-ঘাট নির্মাণ করা হয়। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে ২৭৫০০ পল্লী চিকিৎসক নিয়োগ করে গ্রামীণ জনগণের চিকিৎসার সুযোগ বৃদ্ধি করেন। তিনি জনগণের কল্যাণের জন্য মহাখালী নার্সিং কলেজ, জাতীয় হৃদরোগ ইনষ্টিটিউট ও হাসপাতাল, পল্লীবিদ্যুৎ বোর্ড, আইসিডিডিআর,বি (যার জন্য আইন পাস করেন এবং ১৯৭৯ সালে নিজেই উদ্বোধন করেন), শিশু হাসপাতাল, নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, জাতীয় অর্থপেডিক হাসপাতাল, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনষ্টিটিউট স্থাপন করেন।

নতুন শিল্প কলকারখানা স্থাপনের ভেতর দিয়ে অর্থনৈতিক বন্ধ্যাত্ব দূরীকরণ এবং কলকারখানায় তিন শিফট চালু করে শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি করেন। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করে দেশকে খাদ্য রপ্তানির পর্যায়ে উন্নীত করেন। যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুব ও নারী সমাজকে সম্পৃক্তকরণ করেছিলেন। ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করে সকল মানুষের স্ব স্ব ধর্ম পালনের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিকরণ করেছিলেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধন করেছিলেন। তিনি তৃণমূল পর্যায়ে গ্রামের জনগণকে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্তকরণ এবং সর্বনিম্ন পর্যায় থেকে দেশ গড়ার কাজে নেতৃত্ব সৃষ্টি করার লক্ষ্যে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জিয়াউর রহমান জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের আসন লাভ করেছিলেন। তিন সদস্যবিশিষ্ট আল-কুদস কমিটিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি এবং দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে ‘সার্ক’ প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ গ্রহণ করেন । বেসরকারি খাত ও উদ্যোগকে উৎসাহিতকরণ করে জনশক্তি রপ্তানি, তৈরি পোশাক, হিমায়িত খাদ্য, হস্তশিল্পসহ সকল অপ্রচলিত পণ্যের রপ্তানির দ্বার উন্মোচন করেছিলেন । শিল্পখাতে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রের সম্প্রসারণ করে ব্যাপক উন্নয়ন করেন । আন্তর্জাতিক স্নায়ু যুদ্ধের পরিস্থিতিতে পররাষ্ট্রনীতির উল্লেখযোগ্য সংস্কার করেন এবং পশ্চিমা ও মধ্যেপ্রাচের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেন, ফলে সৌদি আরব সহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যে বিপুল পরিমাণ বাংলাদেশী প্রবাসী শ্রমিকদের কর্মস্থলে পরিণত ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে তার রূপরেখা তিনি রচনা করে গিয়েছিলেন ।

১৯৭৯ সালে তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হয় । মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার এবং যুক্তরাজ্য এলিসি প্যালেসে তাঁকে আমন্ত্রণ জানান, তিনি প্রথম বাংলাদেশি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রিত হন । ফিলিস্তিনের সমস্যা সমাধানের জন্য অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের আল-কুদস কমিটির সদস্য হয়ে তিনি বিশ্ব নেতা হিসাবে পরিচিতি অর্জন করেন । বন্ধুত্ব ও সুসম্পর্ক স্থাপন করার মাধ্যমে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর পু্নর্গঠনের কাজ অনেকটা ত্বরান্বিত করেছিলেন । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর সাথে উন্নত কূটনৈতিক সম্পর্কের কারণে রাষ্ট্রীয় বিমান পরিবহন সংস্থা বিমানের আধুনিকীকরণও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছিলেন । আন্তর্জাতিক ভাবে ইরান ইরাক যুদ্ধে ভূমিকা রেখে সুদৃঢ় অবস্থান নিশ্চিত করেছিলেন ।

১৯৮০ সালের আগস্টে তিনি ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি প্রাসাদে আমন্ত্রিত বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে রাষ্ট্রপতি ভ্যালেরি গিসকার্ড ডি’ইস্টাইং কর্তৃক ইলিসি প্রাসাদে আমন্ত্রিত হন ও দেশের উন্নয়নে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করেন । তাঁর শক্তিশালী অবস্থান ও কূটনৈতিক সফলতার জন্য মায়ানমার ১৯৭৯ সালে ২০০০০০ রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নেয় । তিনি ১৯৭৭ সালে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন ও গ্রামগুলিকে বিদ্যুতায়িত করেন । গ্রাম সরকার সকল স্তরে সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা কেন্দ্রীয় বিষয়, তাই জিয়াউর রহমান স্বনির্ভর গ্রাম সরকার কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন যাতে গ্রামবাসীরা খাদ্য উৎপাদন, গ্রামভিত্তিক সমবায় গঠন, গণসংযোগের মতো উন্নয়ন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিতে পারে ।

তিনি জন্ম নিয়ন্ত্রণ রোধে পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় স্থাপন করেন । ব্যক্তি উদ্যোগে শিল্প প্রসারের উদ্যোগ গ্রহণ করেন । মতিঝিলে অবস্থিত শিল্প ভবন নামক বহুতল দালানটি তাঁর আমলেই করা । চট্টগ্রামে প্রথম ইপিজেড প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেন। ১৯৭৭ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পুনরায় চালু করেন। তাঁর সরকার কমপক্ষে ১০টি সেক্টরকে বেসরকারীকরণ করে এবং কিছু শিল্পের মালিকানা স্থানীয় উদ্যোক্তাদের কাছে হস্তান্তর এবং তহবিল দিয়ে তাদের সহায়তা করার বিধান চালু করেন। পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিতে বিশেষ ভূমিকা রাখা ব্যবসায়ীদের ক্রেস্ট পুরস্কার প্রদান করেন । জিয়াউর রহমানকে কিছু মূল সংস্কারের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য কৃতিত্ব দেওয়া হয় যা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজকে গঠন করেছিল। তাঁর আমলে তৈরি পোশাক শিল্পের সূচনা হয়েছিল যা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পরিবর্তন এনেছিল । এই সংস্কারগুলির মধ্যে রয়েছে বাণিজ্যের উদারীকরণ, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, উদ্যোক্তাদের প্রচার যার ফলে রপ্তানি-নেতৃত্বাধীন বৃদ্ধি ।

১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক বন্ধ অর্থনীতি থেকে পুঁজিবাদী উদার অর্থনীতিতে রূপান্তরের সভাপতিত্ব করেন । বিবিসি জরিপে তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি আসন লাভ করেন ।

এই ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করছি, যিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা, সামরিক নেতা এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সূচনা করেছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *