সেনানিবাসে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষকের পুনঃস্বীকৃতি

জাতীয় রাজনীতি শিরোনাম

ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে উৎখাতের পর বাংলাদেশে ফিরে এলো মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস। দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর অনুষ্ঠানেই স্বাধীনতার ঘোষকের পুনঃস্বীকৃতি পেলেন মহান মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।

এর মধ্য দিয়ে ২০০৯ সাল থেকে ১৭ বছর পর ইতিহাসের সত্য ঘটনা পুনঃপ্রতিষ্ঠা হলো বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নেটাগরিকরা।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তৎকালীন মেজর এবং পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

এ সময় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার‑উজ‑জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম থাকায় সব প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ও বিচারপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ। রায় ঘোষণা করা হয়েছিল ২০০৯ সালের ২১ জুন। পরের বছর ৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট বেঞ্চের দু’জন বিচারক পূর্ণাঙ্গ রায়ে সাক্ষর করেন। ২০০৯ সালের জুনে হাইকোর্টের রায়ের পরপরই আওয়ামী সরকার মুক্তিযুদ্ধের দলিল (তৃতীয় খণ্ড) প্রত্যাহার এবং তা বিক্রি বন্ধের উদ্যোগ নেয়।

২০১০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পরদিন ৮ ফেব্রুয়ারি সেটার অনুলিপি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হয়। স্বাধীনতার প্রথম ঘোষক হিসাবে জিয়াউর রহমানের নাম সম্বলিত সবপত্র বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেয়ার বছরই ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এবিএম খায়রুল হক বাংলাদেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

সর্বদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক জিয়াউর রহমানের অবদান তুলে ধরে বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি কোম্পানির কমান্ডার হিসেবে খেমকারান সেক্টরে জিয়াউর রহমান অসীম বীরত্বের পরিচয় দেন। এই যুদ্ধে বীরত্বের জন্য পাকিস্তান সরকার তাকে হিলাল-ই-জুরাত খেতাবে ভূষিত করে। এছাড়াও, জিয়াউর রহমানের ইউনিট এই যুদ্ধে বীরত্বের জন্য দুটি সিতারা-ই-জুরাত এবং নয়টি তামঘা-ই-জুরাত পদক লাভ করেন।

নেটিজেনরা বলছেন, ২৫শে মার্চ দিবাগত রাতে পশ্চিম পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর গণহত্যা চালায় তখন শেখ মুজিবুর রহমান ব্যাগ গুছিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানে নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করেন। চলে যান আত্মগোপনে। ঠিক এই সঙ্কটময় মুহূর্তে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় পশ্চিম পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণের পর জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করে তিনি প্রশংসিত হন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরো জাতি যখন পাকিস্তানি বর্বরতার মুখে দিশাহারা, তখন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান সমগ্র জাতিকে স্বাধীনতার ডাক দেন। তাঁর এই ঘোষণা ছিল এক ‘অগ্নস্ফুলিঙ্গ’, যা জাতিকে সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে দিকনির্দেশনা দেয় এবং বিশ্ববাসীর কাছে প্রমাণ করে যে এটি কেবল বিদ্রোহ নয়, বরং একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। এর পরপরই সর্বস্তরের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্ব সশস্ত্র বাহিনীর জন্য এক নতুন দিগন্তের সূচনা করে। তিনি ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ প্রবর্তন করেন, যা মহান মুক্তিযুদ্ধের জনগণকেন্দ্রিক চেতনাকে আধুনিক, রাষ্ট্রভিত্তিক ও উন্নয়নমুখী এক নতুন কাঠামোতে উপস্থাপন করে।

সামাজিক মাধ্যমে মোঃ মুজাফফর আলী লিখেছেন, স্বাধীনতার প্রকৃত ঘোষক জিয়াউর রহমান ব্যাগ গুছিয়ে শেখ মুজিবের মতো বিদেশে পালিয়ে যাননি। নিজের স্ত্রী-সন্তানদের যুদ্ধের মধ্যে রেখেই স্বাধীনতার জন্য তিনি প্রাণপন লড়াই করেছিলেন। মুজিব যখন পশ্চিম পাকিস্তানে জামাই আদরে তখন জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে বাংলাদেশ আজ স্বাধীনই হতো না।

আবদুস সবুর আকন লিখেছেন, বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি জেনারেল এমএজি ওসমানী ২৯ মার্চ পর্যন্ত ঢাকায় লুকিয়ে ছিলেন। তখন কার্যত সেনাপ্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল বাহিনী। এই সংকট মুহূর্তে সেনাবাহিনীর হাল ধরে যুদ্ধে দুর্দান্ত নেতৃত্ব দেন রণাঙ্গনের বীর জিয়াউর রহমান। তিনি ভয় পেয়ে মাথানত করেননি, নিজ কমান্ডারকে হত্যা করে দায়িত্ব নিয়েছেন, স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, স্বল্প সংখ্যক সৈন্য নিয়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। তাই স্বাধীনতার ঘোষক স্বীকৃতি কেড়ে নিয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনা তাঁর ওপরে চরম অন্যায় করেছিল। সময়ের ব্যবধানে সেই সঠিক ইতিহাস আবারও ফিরিয়ে এলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *