“মায়ের বেঁচে থাকা নিয়ে নিশ্চিত নই”
ঢাকা, ১৫ ডিসেম্বর (খবর৫২ ডেস্ক):
মিয়ানমারের আটক সাবেক নেত্রী ও শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সুচির স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার ছেলে কিম অ্যারিস। দীর্ঘদিন ধরে মায়ের কোনো খবর না পাওয়ায় তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, সুচি আদৌ বেঁচে আছেন কিনা তা নিয়েও তিনি নিশ্চিত নন। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গণমাধ্যমটিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কিম অ্যারিস বলেন, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে গত কয়েক বছর ধরে তিনি তার ৮০ বছর বয়সী মায়ের সঙ্গে সরাসরি কোনো যোগাযোগ করতে পারেননি। মাঝেমধ্যে পরোক্ষ সূত্রে মায়ের হৃদরোগ, হাড় ও মাড়ির সমস্যার কথা জানতে পেরেছেন।
জাপানের রাজধানী টোকিও থেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অ্যারিস জানান, তার মায়ের দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে। দুই বছরের বেশি সময় ধরে কেউ তাকে দেখেনি। তার আইনজীবী এমনকি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও তাকে কোনো যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। অ্যারিস বলেন, “তিনি (সুচি) হয়তো ইতিমধ্যেই মারা যেতে পারেন।”
চলতি মাসের শেষ দিকে মিয়ানমারে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের বিষয়ে সামরিক জান্তার উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করে অ্যারিস বলেন, বহু বিদেশি সরকারের মতে, এই নির্বাচন মূলত সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার একটি প্রহসন। তবে তার মতে, এই নির্বাচন সুচির অবস্থার উন্নতির ক্ষেত্রে সামান্য হলেও একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তিনি বলেন, “আমি কল্পনা করতে পারি, (জান্তা প্রধান) মিন অং হ্লাইংয়ের আমার মাকে নিয়ে নিজস্ব কোনো পরিকল্পনা রয়েছে। যদি তিনি নির্বাচনের আগে বা পরে সাধারণ মানুষের মন জয় করতে আমার মাকে মুক্তি দেন বা গৃহবন্দিত্বে স্থানান্তর করেন, তাহলে সেটিও অন্তত কিছুটা অগ্রগতি হবে।” এ বিষয়ে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের এক মুখপাত্রকে প্রশ্ন করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমার গভীর অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। সুচি বর্তমানে উসকানি, দুর্নীতি ও নির্বাচন জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন, যেসব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। অ্যারিসের ধারণা, সুচিকে রাজধানী নেপিদোয় আটক রাখা হয়েছে। দুই বছর আগে পাওয়া শেষ চিঠিতে সুচি কারাকক্ষের তীব্র গরম ও শীতের কথা উল্লেখ করেছিলেন।
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংঘাতের কারণে মিয়ানমারের পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলের নজর থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন অ্যারিস। তিনি বলেন, ২৮ ডিসেম্বর থেকে ধাপে ধাপে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের বিষয়টি সামনে রেখে জাপানসহ বিভিন্ন দেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চান, যাতে তারা জান্তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেয় এবং সুচির মুক্তির দাবি তোলে।
রাখাইন সংকটের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুচির অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ায় তার মুক্তির বিষয়ে আগের মতো চাপ তৈরি করা কঠিন হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তার ছেলে। ব্রিটিশ নাগরিক কিম অ্যারিস দাবি করেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযানে তার মা জড়িত ছিলেন না। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সুচির হাতে সেনাবাহিনীর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল না।
আরও গুরুত্বপূর্ণ খবরের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন www.khobor52.com
