সমর্থকদের মাঠে প্রবেশ না করতে দেওয়ার অনুরোধ করেছে আর্জেন্টিনা সরকার

খেলা

বিশ্বকাপের মঞ্চে শুধু মাঠের লড়াই নয়, গ্যালারিতেও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে আর্জেন্টিনা সরকার। সন্তানদের ভরণপোষণ না দেওয়া এবং বিভিন্ন আইনি জটিলতায় জড়িত হাজারো ব্যক্তিকে স্টেডিয়ামে প্রবেশে বাধা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছে দেশটি। এ লক্ষ্যে প্রায় ১৩ হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থকের একটি তালিকাও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার। ‘জে’ গ্রুপে লিওনেল স্কালোনির দল প্রথম ম্যাচ খেলবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে। এরপর তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। তবে মাঠের লড়াইয়ের বাইরে সমর্থকদের নিয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছে আর্জেন্টিনা সরকার।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএসর প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের কাছে প্রায় ১৩ হাজার ব্যক্তির একটি তালিকা পাঠিয়েছে বুয়েনস আইরেস। তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের বেশির ভাগের বিরুদ্ধে সন্তানদের ভরণপোষণ বা ‘চাইল্ড সাপোর্ট’ বকেয়া রাখার অভিযোগ রয়েছে। 

আর্জেন্টাইন কর্তৃপক্ষের মতে, যারা নিজেদের সন্তানের আর্থিক দায়িত্ব পালন করেন না, তাদের বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরে উপস্থিত থাকার সুযোগ পাওয়া উচিত নয়।

বুয়েনস আইরেসের মেয়র হোর্হে মাখরি এ বিষয়ে বলেন, ‘যদি তারা নিজেদের সন্তানদের প্রয়োজন মেটাতে না পারে, তবে তাদের কোনো স্টেডিয়ামে ঢুকতে দেওয়া হবে না।’

এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ‘সেফ স্ট্যান্ডস’ নামে একটি কর্মসূচি পরিচালনা করছে আর্জেন্টিনা সরকার। এর লক্ষ্য, আদালতে প্রমাণিত ভরণপোষণ বকেয়া কিংবা অন্যান্য গুরুতর আইনি অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ক্রীড়া ভেন্যুতে প্রবেশে বাধা দেওয়া।

সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে ব্যাপক কার্যক্রম চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমেও বিশ্বকাপ চলাকালে তাদের স্টেডিয়ামে প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। 

২০২৩ সালে সম্প্রসারিত হওয়ার পর ‘সেফ স্ট্যান্ডস’ কর্মসূচির আওতায় আর্জেন্টিনায় ১ হাজার ৩২৮টি ফুটবল ম্যাচে ৪০ লাখের বেশি দর্শককে যাচাই করা হয়েছে। এই সময়ে ১ হাজার ১৬৬ জনের বিরুদ্ধে বিদ্যমান গ্রেপ্তারি পরোয়ানা শনাক্ত করা হয়েছে এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে শুধু ভরণপোষণ বকেয়া রাখা ব্যক্তিরাই নন, সহিংস অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের নামও এই তালিকায় রয়েছে।

আর্জেন্টিনার জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী পাত্রিসিয়া বুররিচ বলেন, তালিকায় ১৫ হাজারের বেশি মানুষের নাম রয়েছে, যাদের স্টেডিয়ামে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে। আমাদের কাছে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আর্জেন্টিনার স্টেডিয়ামে কোনো অপরাধ বা সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এই বৈশ্বিক আয়োজনে প্রবেশ করতে পারবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *