
বিশ্বব্যাপী কৌশলগত ও কূটনৈতিক সম্পর্ক দৃঢ় করতে এবার এক নতুন পথে হাঁটছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)। মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্র সউদী আরবের নাগরিকদের ইউরোপে ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে ইইউ। এই উদ্যোগ শুধু দু’দেশের সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে না, বরং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, পর্যটন এবং বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বুধবার (১৬ এপ্রিল) পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এআরওয়াই নিউজ জানায়, সউদী নাগরিকরা খুব শিগগিরই শেনজেন অঞ্চলের ২৭টি ইউরোপীয় দেশে ভিসা ছাড়াই স্বল্পমেয়াদে ভ্রমণ করতে পারবেন। সউদী আরবে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টোফ ফার্নাউড এ বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য মূলত ইইউ ও সউদী আরবের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা, যা ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চুক্তির ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।
ইউরোপীয় কমিশন ইতিমধ্যেই সউদী আরবসহ বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও ওমানের নাগরিকদের জন্য ভিসার শর্ত শিথিল করেছে। এই দেশগুলোর নাগরিকরা বর্তমানে পাঁচ বছর মেয়াদি মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা পাচ্ছেন, যা তাদের বারবার স্বল্পমেয়াদে ইউরোপ ভ্রমণের সুযোগ দিচ্ছে। কিন্তু নতুন এই পরিকল্পনা আরও একধাপ এগিয়ে গিয়ে সৌদি নাগরিকদের জন্য সম্পূর্ণ ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়ার পথে এগোচ্ছে, যা কৌশলগত অংশীদারত্বকে দৃঢ়তর করবে।
এই উদ্যোগ সউদী আরবের “ভিশন ২০৩০” প্রকল্পের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে সউদী সরকার দেশের অর্থনীতিকে তেলনির্ভরতা থেকে সরিয়ে বহুমুখীকরণের চেষ্টা করছে। সেই পরিকল্পনায় বৈশ্বিক পর্যটন, প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে সউদী আরবকে এক আধুনিক ও উদার রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করার লক্ষ্য রয়েছে। তাই ভিসা-মুক্ত ভ্রমণ সুবিধা এ লক্ষ্য পূরণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে আরও গতিশীল করবে।
এদিকে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) একটি সম্মিলিত ভিসা ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে, যার নাম “জিসিসি গ্রান্ড ট্যুরস” ভিসা। এটি চালু হলে একটি মাত্র ভিসা ব্যবহার করে একাধিক জিসিসি দেশ সফর করা যাবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতিমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন তউক আল মাররি জানিয়েছেন, এই ভিসার আওতায় পর্যটকরা ৩০ দিনের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সদস্য দেশ সফর করতে পারবেন। ইইউ ও জিসিসির এই যুগান্তকারী উদ্যোগগুলো বিশ্ব পর্যটন, অর্থনৈতিক বিনিময় এবং কৌশলগত সহযোগিতাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে—যা বহুপাক্ষিক বন্ধুত্বের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করে তোলে। তথ্যসূত্র : এআরওয়াই নিউজ
