
সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। শেয়ার মার্কেটের ধারাবাহিক পতন ঘটিয়ে হাজার হাজার বিনিয়োগকারীকে নিঃস্ব করার জন্য যারা দায়ী তাদের চিহ্নিত করাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে।
গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করছেন। খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী পক্ষে পটুয়াখালী ৪ আসনের সংসদ সদস্য লিখিত প্রশ্ন রেখে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের শেয়ার মার্কেটের ধারাবাহিক পতনের প্রধান কারণগুলি কী কী ছিল; শেয়ার মার্কেটের ধারাবাহিক পতন ঘটাইয়া হাজার হাজার বিনিয়োগকারীদের নিঃস্ব করার জন্য যারা দায়ী তাহাদের চিহ্নিত করাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে কি না? জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারীর অভিযোগ দুদক কর্তৃক অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। কতিপয় ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে মামলাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারীর সঙ্গে আরও অন্যান্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জড়িত কিনা তা উদঘাটনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সিরাজগঞ্জ-১ আসনের তারকা চিহ্নিত সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করতে কোনো পরিকল্পনা সরকারের আছে কিনা? থাকলে সেটা কী, এবং কবে নাগাদ এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে? এমন প্রশ্নের জন্য মো. সেলিম রেজাকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে গঠিত আমাদের এই সরকার রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বিগত দিনে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোপূর্বে ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯২ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার সফল কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে সেসময়ে উদ্ভূত রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান করেছিলেন। তাঁদের সুযোগ্য দিকনির্দেশনায় সেই সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা দ্রুততম সময়ে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করতে পেরেছিলো।তিনি বলেন, বর্তমান সময়েও পূর্বের সেই নীতির আলোকেই আমরা টেকসই, শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানের পথ অনুসন্ধান করছি। বিএনপি সরকার রোহিঙ্গা সমস্যার আশু সমাধানের লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক সকল ফ্রন্টেই অত্যন্ত জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক মানবিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে স্থাপন করার লক্ষ্যে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন,এ প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ইউএন এইচসিআর ইউ এন ওমেন এবং ওয়ার্ল্ড ফুড প্রগ্রাম -এর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পসমূহ পরিদর্শন করেন এবং মানবিক সহায়তা আরও কীভাবে বৃদ্ধি করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তিনি বলেন, চলতি মাসের শুরুতে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারি সফরে বাংলাদেশে এসে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। এই সফরের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য তুরস্কের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা আশা করি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর পাশাপাশি, গত সেপ্টেম্বরে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতিসংঘে একটি উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন আয়োজন করা হয়। ভবিষ্যতেও জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বজনমতকে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণসমূহ বিবেচনায় নিয়ে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার প্রতি বাংলাদেশ নৈতিক সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও কার্যকর সমাধান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যেই নিহিত। আর তাই রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, টেকসই ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারে অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বৃদ্ধি অব্যাহত রাখার লক্ষে আমাদের কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে দ্বিপাক্ষিক ফ্রন্টে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের পাশাপাশি সকল পক্ষের সাথে সম্ভাব্য যোগাযোগ স্থাপন ও আলোচনার বিষয়টি আমাদের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। তাছাড়া মূলধারার কূটনীতির পাশাপাশি এর ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রক্রিয়া প্রয়োগের বিষয়টি আমাদের বিবেচনাধীন। একই সাথে প্রত্যাবাসনের মূল ভিত্তি হিসেবে রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাইকরণ বা ভ্যারিফিকেশনের কাজ নিয়মিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের তৃতীয় কোনো দেশে পুনর্বাসন বা প্রত্যাবাসনের কার্যক্রমও চলমান আছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন একটি অত্যন্ত জটিল, সংবেদনশীল এবং বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক বিষয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর সমাধানের গতিপ্রকৃতি অনেকাংশেই নির্ভর করে রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক চাপ এবং সর্বোপরি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের ওপর। তিনি বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির মধ্যে একটি কার্যকর সংলাপের ক্ষেত্র তৈরি হওয়া গুরত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্যে আমরা সংশ্লিষ্ট দেশসমূহের সাথে সংলাপ জোরদার করেছি। রোহিঙ্গাদের স্থায়ী, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।’ বর্তমান সরকার রোহিঙ্গা ক্যাম্পসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে ও মানবিক সংকট মোকাবেলায় অত্যন্ত সুচিন্তিত, বাস্তবধর্মী ও বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন,ক্যাম্পসমূহের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, স্বাগতিক কমিউনিটির সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় গুলোর সমন্বয়ে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মায়ানমার নাগরিকগণের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি’ অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। র পাশাপাশি, ক্যাম্পসমূহে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা প্রদান ও তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া তরান্বিত করতে প্রয়োজনীয় কৌশলগত নীতিনির্ধারণ ও অধিকতর সমন্বয়ের লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘ এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স’ সার্বক্ষণিকভাবে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তদারকি করছে। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বাস্তবসম্মত ও স্থায়ী সমাধানের মাধ্যমে এই বিপুল সংখ্যক বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে সসম্মানে স্বদেশে ফেরত পাঠাতে বর্তমান সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসান সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মালয়েশিয়া প্রতিবছর চায়নাতে বিলিয়ন ডলারের ডুরিয়ান এক্সপোর্ট করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তারা যদি পারে নিশ্চয়ই আমরা কাঁঠালও এক্সপোর্ট করতে পারবো এবং এর মাধ্যমে আমরা নিশ্চয়ই বড় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হবো। আমি আমার নির্বাচনি এলাকা ময়মনসিংহ-৬ আসনের ফুলবাড়িয়ায় প্রচুর পরিমাণে লেবু, আনারস এবং কাঁঠাল উৎপাদন হয় এবং বিপুল একটা বাজার সেখানে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আমার জিজ্ঞাসা হচ্ছে, এটা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে, যদি সেখানে একটি কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা যায়। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চাচ্ছি যে ফুলবাড়িয়ায় এরকম একটি শিল্পাঞ্চল কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হবে কিনা? জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেশ কয়েক বছর আগে আপনার ওখানে (ফুলবাড়িয়া) আনারসের ইন্ডাস্ট্রি করা হয়েছিল, জানেন বোধহয়। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেটি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করছি, বিভিন্ন কারখানা যেগুলো বন্ধ আছে সেগুলো চালু করার জন্য। কৃষি খাতের মিল ফ্যাক্টরিগুলো আমরা চেষ্টা করছি আবার চালু করার জন্য। এটি গেলো একটি। দ্বিতীয়টি হচ্ছেআলাদাভাবে আপনার ওখানে ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন করার পরিকল্পনা নেই আমাদের। কিন্তু যেটা বন্ধ হয়ে গেছে সেটাকে কীভাবে চালানো যায়—সেই চেষ্টা আমরা করছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন এই কিছু দিন আগে চীন সফরে গিয়েছিলাম। সেই চীন সফরে আমরা তাদের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। আমাদের দেশের কাঁঠাল অত্যন্ত পপুলার চীনের মানুষরা খুব পছন্দ করেন। এই দেশ থেকে চীনে আমরা কাঁঠাল রফতানি করবো ইনশাআল্লাহ। প্রসঙ্গক্রমে আমি বলি, চীনের আগে মালয়েশিয়াতে গিয়েছিলাম, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম কথা প্রসঙ্গে আমাকে জানিয়েছেন, তাদের ওখানে একটি ফল হয় ডুরিয়ান। দেখতে অনেকটা কাঁঠালের মতো। কথা প্রসঙ্গে উনি আমাকে জানিয়েছেন, মালয়েশিয়া প্রতি বছর চায়নাতে বিলিয়ন ডলারের ডুরিয়ান এক্সপোর্ট করে। তারা যদি পারে নিশ্চয়ই আমরা কাঁঠালও এক্সপোর্ট করতে পারবো। এর মাধ্যমে আমরা নিশ্চয়ই বড় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হবো। পেঁয়াজ-রসুনের অপচয় রোধে ৮ হাজার এয়ার ফ্লো মেশিন বসাবে সরকার॥ ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলামের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পেঁয়াজ ও রসুনের পচন রোধ করে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে দেশের প্রধান প্রধান উৎপাদন এলাকায় আরও ৮ হাজার বায়ুপ্রবাহ (এয়ার ফ্লো) মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে আধুনিক সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থা সম্প্রসারণে নতুন একটি প্রকল্প প্রণয়নের কাজও চলছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, পেঁয়াজ ও রসুনের অপচয় রোধ এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে একাধিক বাস্তবমুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে। বাংলাদেশ পেঁয়াজ উৎপাদন এলাকায় পরিবর্তিত জলবায়ুর প্রতিকূল প্রভাব প্রশমনে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণ’ প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ৩ হাজার ৫০০টি এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ‘কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণ পদ্ধতি আধুনিকায়ন এবং বিপণন কার্যক্রম উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলায় ৯০০টি মডেল সংরক্ষণ ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ঘরের প্রতিটির ধারণক্ষমতা ১০ থেকে ১২ টন, যা কৃষকদের ফসল দীর্ঘ সময় সংরক্ষণে বড় ভূমিকা রাখছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, শুধু প্রযুক্তি সরবরাহ নয়, কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং সরাসরি বাজার সংযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় ১৯ হাজার কৃষকের মধ্যে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে ‘বায়ুপ্রবাহ পদ্ধতিতে পেঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণ পদ্ধতি আধুনিকায়ন এবং বিপণন কার্যক্রম উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি নতুন প্রকল্প প্রণয়ন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রধান উৎপাদন এলাকাগুলোতে নতুন করে আরও ৮ হাজার বায়ুপ্রবাহ মেশিন স্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী সংসদে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে পেঁয়াজ ও রসুনের পচনশীলতা ও অপচয় উল্লেখযোগ্য হারে কমবে। এর ফলে কৃষকরা অফ-সিজনে বা মৌসুম শেষে পণ্য বিক্রি করে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন, যা জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম ধলুর লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনি ইশতেহারে শিক্ষা খাতের মানোন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির পাঁচ শতাংশে উন্নীত করা হবে। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি। সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম ধলু জানতে চান, দেশের নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন, শিক্ষকদের গুণগত প্রশিক্ষণ, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার শূন্যে নামিয়ে আনতে বাজেটে শিক্ষা খাতে বিশেষ কোনও অগ্রাধিকারমূলক বরাদ্দ রাখা হয়েছে কি না। জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করে প্রথমবারের মতো জিডিপির দুই শতাংশে উন্নীত করেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে (এসইডিপি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মোট ৪১৯৯ কোটি টাকা (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে ৩৫৯৯ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে ৬০০ কোটি টাকা) বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এসইডিপির আওতায় মোট ১০টি স্কিম চলমান রয়েছে। এসব স্কিমের মধ্যে একটি ন্যাশনাল কারিকুলাম ডিসেমিনেশন এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য নির্ধারিত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন প্রকল্পের আওতায় শিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য ৮১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে মোট ৩ লাখ ৪৭ হাজার ২১ জন শিক্ষক, প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সংশ্লিষ্ট জনবলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে বেসিক ট্রেনিং, বিষয়ভিত্তিক প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের লিডারশিপ ট্রেনিং, ভোকেশনাল শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, ব্লেন্ডেড লার্নিং, আইসিটি, লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও বুলিং প্রতিরোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে প্রশিক্ষণ।
.
সংসদ নেতা তারেক রহমান জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিচালন বাজেটে ৩০৪০ দশমিক ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অনুকূলে ২১৯৬ দশমিক ৪ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অনুকূলে ৮৪৪ দশমিক ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ঝরে পড়ার হার কমিয়ে আনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রাইমারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-৫ (পিইডিপি-৫)-সহ পাঁচটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। এ ছাড়া, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার শূন্যে নামিয়ে আনতে চলতি অর্থবছর থেকে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ ও উপবৃত্তি প্রদানের পাশাপাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিং কর্মসূচি, স্কুল ড্রেস বিতরণ এবং আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিতকল্পে ক্রীড়া উপকরণ সরবরাহ করা হবে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার কমে আসবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণে এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি ও মেধাবৃত্তি বাবদ ৫ হাজার ৫৩৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা চলতি অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
