শেখ হাসিনাকে দিয়েই শুরু গণহত্যার বিচার

জাতীয়

সমকাল

‘শেখ হাসিনাকে দিয়েই শুরু গণহত্যার বিচার’-এটি দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। আগামী মাসেই এ-সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখায় দাখিল করার কথা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের আওতায় গঠিত তদন্তকারী সংস্থা ও প্রসিকিউশনের সমন্বয়ে বৈঠকে গত সপ্তাহে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় চিফ প্রসিকিউটর ও তদন্তকারী সংস্থার প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় চলতি মাসের মধ্যে তদন্ত সংস্থাকে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন তৈরিতে এক-তৃতীয়াংশ কাজ বাকি।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ বছরে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থেকে নানা ধরনের অপরাধের প্রধান হিসেবে বিচারের প্রথম ধাপে শেখ হাসিনাকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার সরাসরি নির্দেশদাতা হিসেবেও থাকছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার পৃথক দুটি প্রতিবেদন শিগগিরই প্রসিকিউশন বিভাগে দাখিল করবে তদন্তকারী সংস্থা।

এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর যাচাই-বাছাই করে একটি অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠন করা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর এই প্রথম কোনো মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হচ্ছে। শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে আশ্রয়ে রয়েছেন।

তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা ১৫ বছর শেখ হাসিনা ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারপ্রধান হিসেবে সবকিছুই তাঁর একক নির্দেশে সংঘটিত হয়েছে। এখানে তাঁকে ‘সুপিরিয়র কমান্ড’ হিসেবে রাখা হচ্ছে।

তবে তদন্ত সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্বচ্ছ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পর্যাপ্ত সময় প্রয়োজন। স্বল্প সময় ও তাড়াহুড়া করে দুর্বল প্রতিবেদন দাখিল করা হলে আসামিরা বেরিয়ে যেতে পারেন।

প্রথম আলো

দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম ‘বায়ুদূষণে বিশ্বে ২য় বাংলাদেশ, নগর হিসেবে তৃতীয় ঢাকা’। খবরে বলা হয়, বায়ুদূষণে ২০২৪ সালে দেশ হিসেবে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। আর নগর হিসেবে বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ দূষিত নগর ছিল ঢাকা। ২০২৩ সালে বায়ুদূষণে বাংলাদেশ শীর্ষে ছিল। নগর হিসেবে ঢাকার অবস্থান ছিল দ্বিতীয়।

গত বছর বায়ুদূষণে শীর্ষ দেশ ছিল আফ্রিকার চাদ। আর নগর হিসেবে শীর্ষে ছিল ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। গতকাল মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের ‘বৈশ্বিক বায়ুমান প্রতিবেদন ২০২৪’-এ এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

সার্বিকভাবে বায়ুদূষণে আগের বছরের তুলনায় গত বছর বাংলাদেশের অবস্থানের সামান্য পরিবর্তন হয়েছে। শীর্ষ অবস্থান থেকে বাংলাদেশের স্থান হয়েছে দ্বিতীয়। আর নগরীগুলোর মধ্যে ঢাকা দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় হয়েছে। তবে এই পরিবর্তনকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন না পরিবেশবাদী ও গবেষকেরা। তাঁরা বলছেন, দূষণ আরও বিস্তৃত হচ্ছে, এবারের প্রতিবেদন সেই বাস্তবতাকে তুলে ধরেছে। কারণ, আগে দেখা গেছে যে রাজধানীর তুলনায় দেশের সার্বিক গড় বায়ুমান কিছুটা ভালো থাকত। কিন্তু এবারের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশ এবং দেশের সবচেয়ে দূষিত নগরী ঢাকার বায়ুর মান প্রায় একই।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘মাত্র ছয় মাসে বায়ুমানের অনেক উন্নতি হবে, তা আশা করা ঠিক নয়। কিন্তু আমরা অনেক পদক্ষেপ নিয়েছি, যাতে এমন আশা করতে পারি যে আগামী শুকনা মৌসুমে ঢাকা এবং দেশের অন্যত্র বায়ুমানের উন্নতি হবে।’ তিনি বলেন, ঢাকার রাস্তার পাশের খোলা স্থান ঘাস দিয়ে আচ্ছাদিত করা হবে। তাতে অন্তত ধুলাদূষণ কমবে। ছয়জন ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়ে সাড়ে ছয় হাজার ইটভাটা পর্যবেক্ষণ করা যায় না। এ ক্ষেত্রেও নজরদারি বাড়ানোর চেষ্টা থাকবে।

যুগান্তর

হাসিনার ‘আলাদিনের চেরাগ’-এটি দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে নিজেকে প্রাণবন্ত করে সাবলীলভাবে সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের সামনে বিশ্বাসযোগ্যভাবে কিছু কথা বলতেন। তিনি প্রায়ই কবিতার ছন্দে বলতেন-‘নিঃস্ব আমি রিক্ত আমি দেবার কিছু নেই, আছে শুধু ভালোবাসা দিয়ে গেলাম তাই।’ পরিবারের সদস্যদের পাশে রেখে প্রায়ই বলতেন-‘সন্তানদের জন্য আমি কোনো সম্পদ করিনি, তাদের লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করেছি।’ দলের এবং দলের বাইরের মানুষদেরও তিনি সবক দিতেন দুর্নীতি না করার। সত্যিকার অর্থে শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে যখন দেশে ফিরে আসেন, তখন এক রকম শূন্যহাতেই ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর সামনে আসতে থাকে হতবাক করার মতো তথ্য।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার দোসরদের বিপুল পরিমাণ দুর্নীতি ও লুটপাটের তথ্য সামনে আসতে থাকে। একে একে শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভার সদস্য এবং দলের সব পর্যায়ের নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের দুর্নীতির সম্পদও প্রকাশ্যে আসে। অনেকে গ্রেফতার হন। আত্মগোপনে ও দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন অনেকে। তবে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের এবং আশপাশের অতি ঘনিষ্ঠজনদের সম্পদ সবে চাউর হতে শুরু করেছে। প্রথমবারের মতো সোমবার সরকারের পক্ষ থেকে হাসিনা পরিবারের অবিশ্বাস্য সম্পদের ফিরিস্তি শুনে সবাই বিস্মিত হন।

অথচ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায়ই তার বক্তৃতায় নীতিকথার নানা বাণী শোনাতেন। যার সঙ্গে এখন বাস্তবতার কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রকারান্তরে শেখ হাসিনার এসব বক্তব্যের আড়ালে ছিল প্রচণ্ড ধূর্তামি ও প্রতারণা। মানুষকে বোকা বানানোতে তিনি পটু ছিলেন। ফলে খুব বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে রসিয়ে রসিয়ে তিনি এসব কথা বলতেন। অনেক সময় কথার সঙ্গে আঞ্চলিক ভাষা যুক্ত করে প্রলুব্ধ করতেন সাধারণ মানুষকে। এসব কথার মারপ্যাঁচ এবং উন্নয়ন ফিরিস্তির আড়ালে তিনি ছিলেন মূলত আপাদমস্তক দুর্নীতিবাজ ফ্যাসিস্ট।

কালের কণ্ঠ

দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম ‘পুলিশে শৈথিল্য, বাড়ছে বিশৃঙ্খলা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে দেশে ক্রমে বাড়ছে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেও এর রাশ টানা যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই অবনতির নেপথ্যে ইন্ধন জোগাচ্ছে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের দোসররা।

সূত্র বলছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীতে কর্মরতদের বেশির ভাগই আওয়ামী শাসনামলে নিয়োগপ্রাপ্ত। ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানে দেশে পটপরিবর্তন হলেও তারা ঘাপটি মেরে থেকে নেপথ্যে ইন্ধন জোগাচ্ছে কিভাবে সরকারকে বেকায়দায় ফেলা যায়। সম্প্রতি দেশে অপরাধপ্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় এ বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। তবে আশার কথা হলো, পুলিশে সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকার যে ‘পুলিশ সংস্কার কমিশন’ গঠন করেছে এরই মধ্যে তারা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

কমিশনের প্রস্তাব কার্যকর হলে পুলিশ বাহিনী অনেকটাই সংশোধন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। গত বছর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে কর্তৃত্ববাদী শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে। ঐতিহাসিক এ গণ-অভ্যুত্থানের পর অত্যন্ত ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করে। এরপর সাত মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো থিতু হয়নি চলমান অস্থিরতা।

ইত্তেফাক

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর ‘খুন ডাকাতি ছিনতাই ও ধর্ষণে বাড়ছে উদ্বেগ’। খবরে বলা হয়, সম্প্রতি দেশে প্রকাশ্যে হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে। এতে দেশ জুড়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠা। ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় ঢাকাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শহরে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুদ্ধ কেউ কেউ অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন। যৌথবাহিনীর সমন্বয়ে সারা দেশে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ নামে একটি বিশেষ অভিযানের মধ্যে এই ঘটনাগুলো ঘটছে।

গত দুই মাসে রাজধানী ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই ও আঞ্চলিক মহাসড়কে বাস ডাকাতির মতো বেশ কয়েকটি ঘটনা আলোচনায় এসেছে। সমসাময়িক বেশকিছু হত্যাকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় মানুষ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে প্রকাশ্যে হত্যার ঘটনা, গণপিটুনিতে হত্যা, বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করারও ঘটনা রয়েছে। পুরো পরিস্থিতিতে ছড়িয়ে পড়েছে এক ধরনের আতঙ্ক।

মানবাধিকার সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সাত মাসে মব ভায়োলেন্স তৈরি করে ১১৯ জনকে হত্যা করা হয়েছে। শুধু গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসেই ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৯৬ জন নারী ও শিশু। একই সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতায় মারা গেছেন ১৬ জন। 
নয়া দিগন্ত

বণিক বার্তা

‘স্বতন্ত্র বিভাগ গঠন করা হলেই কি রাজস্ব আহরণ বাড়বে’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, কর ব্যবস্থার দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বাড়াতে বিশ্বের অনেক দেশই কর নীতি ও কর সংগ্রহ কার্যক্রমকে আলাদা করার পথে হেঁটেছে। বাংলাদেশেও এ উদ্যোগ শুরু হয়েছিল ২০০৭-০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে। যদিও তা পরে আর আলোর মুখ দেখেনি।

দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও রাজস্ব কার্যক্রম সংস্কারের আওতায় কর নীতি ও কর সংগ্রহ কার্যক্রমকে আলাদা করার উদ্যোগ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের মতো বহুজাতিক দাতা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকেও এটি বাস্তবায়নের চাপ রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ নামে দুটি স্বতন্ত্র বিভাগ গঠনের প্রস্তাব সংবলিত একটি অধ্যাদেশের খসড়া প্রণয়ন করেছে সরকার।

তবে এ উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে প্রশাসনিক সংস্কারের নামে অতীতে বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থা গঠন করা হলেও সেক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আসেনি। ফলে কর ব্যবস্থায় বিদ্যমান দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, ডিজিটালাইজেশনের অভাবের মতো বিষয়গুলোর সমাধান না করে শুধু জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যক্রমকে দুটি আলাদা বিভাগের ওপর ন্যস্ত করা হলেই রাজস্ব আহরণ বাড়বে কিনা, সে বিষয়ে সন্দেহের বড় ধরনের অবকাশ রয়েছে।

রাজস্ব ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে দেশে রাজস্ব আহরণ বাড়ছে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের ভাষ্যমতে, মূলত প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণেই কর আহরণ বাড়ানো যাচ্ছে না। এখনো দেশের অর্থনৈতিক ইউনিটগুলোর মধ্যে বৃহদংশই সরকারের করজালের বাইরে। আবার অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির আকারও ক্রমেই বাড়ছে। এর ধারাবাহিকতায় বিশ্বের অন্যতম নিম্ন কর-জিডিপি আহরণের দেশে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। ব্যক্তি পর্যায়ে আয়কর ছাড়াও সেলফোনে কথা বলা থেকে শুরু করে কেনাকাটা, হোটেলে খাওয়া, সিনেমা দেখাসহ দৈনন্দিন লেনদেনে ভোক্তা ও গ্রাহকরা কোনো না কোনোভাবে করজালের আওতায় রয়েছেন।

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘শ্রমিক পাঠিয়ে ১১২৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে সরকার-নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে ১ হাজার ১২৮ কোটি টাকার বেশি আত্মসাৎ করেছে সিন্ডিকেট। এই অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ১২টি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক, পদস্থ কর্মকর্তাসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, সাবেক তিন এমপি নিজাম হাজারী, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, বেনজির আহমেদ এবং ব্যবসায়ী নুর আলী আসামি হচ্ছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুদক এসব মামলার অনুমোদন দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন।

দুদক মহাপরিচালক বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে সরকার-নির্ধারিত ফি ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা হলেও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো অতিরিক্ত ৫ গুণ অর্থ আদায় করেছে। ৬৭ হাজার ৩৮০ প্রবাসীর কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগে মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এতে ১২টি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মামলায় আসামি করা হচ্ছে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ওঠা রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর দুটি হলো মেসার্স অরবিটাল এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স অরবিটাল ইন্টারন্যাশনাল। প্রতিষ্ঠান দুটি ৯ হাজার ২৪ জন প্রবাসীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ১৫১ কোটি ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়েছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠান দুটির মালিক সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, তাঁর স্ত্রী কাশমিরি কামাল ও মেয়ে নাফিসা কামালকে মামলার আসামি করছে দুদক।

দেশ রূপান্তর

‘বিমানের আকাশে নৈরাজ্য’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিমান একটি আদর্শের প্রতীকে পরিণত হয়েছিল। ওই সময় বিমানের প্রতিটি কাজের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিমানের বোর্ড পুনর্গঠিত হলেও কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাবের অভিযোগ উঠেছে।

কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলেও তাকে সেই দোষমুক্ত করার জন্য পছন্দের লোক দিয়ে গঠন করা হচ্ছে দ্বিতীয় তদন্ত কমিটি। গত ১৫ বছরে যাদের দোর্দ- প্রতাপে বিমানের ‘ভেঙে পড়ার’ উপক্রম হয়েছিল, তারাই নানা জায়গায় পুনর্বাসিত হচ্ছেন। গাড়িচালক থেকে শুরু করে বিমানচালকও অনিয়মে জড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ। বলা যায়, নৈরাজ্যের আকাশে ঘুরপাক খাচ্ছে ‘বিমান’।

বিমানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিমানের নিজস্ব কর্মকর্তা হওয়ায় তিনি বিমানের প্রায় সবাইকেই চেনেন। তিনি যেসব কাজ সুষ্ঠুভাবে করতে পারবেন, প্রশাসন ক্যাডার থেকে এমডি এনে সে কাজ করা সম্ভব নয়। কিন্তু তার কর্মকান্ডে বিমানকর্মীরা নাখোশ। তিনি তেলা মাথায় তেল ঢালছেন। বিগত বছরগুলোয় যারা সুবিধা ভোগ করেছেন, তাদেরই সুবিধাজনক জায়গায় চাকরি করার সুযোগ দিচ্ছেন। সার্টিফিকেট জালিয়াতি, তেল চুরির মতো ছোটখাটো ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় বিমানে অসন্তোষের আলামত পাওয়া যাচ্ছে।

ডেইলি স্টার

দ্য ডেইলি স্টারের প্রধান শিরোনাম ‘Hastily buried in unmarked graves’ বা ‘অজ্ঞাত কবরে তড়িঘড়ি করে লাশ দাফন’।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাত মাস পরও অনেক বিক্ষোভকারী নিখোঁজ রয়েছেন। সেই নিখোঁজ ব্যক্তিদের নিয়েই চার পর্বের এই প্রতিবেদনটি করা হয়েছে। এটি হলো প্রথম পর্ব। প্রতিবেদনটি করার জন্য দ্য ডেইলি স্টার জুলাই আন্দোলনের ৩১টি ঘটনার তদন্ত করেছে।

এর মধ্যে ছয়জনের মরদেহ রাজধানীর রায়েরবাজার কবরস্থানে অজ্ঞাত পরিচয়ে দাফন করা হয়েছে। চারজনের পরিবার আশুলিয়ায় পোড়া মৃতদেহের মধ্যে থেকে তাদের স্বজনদের শনাক্ত করেছে। দুইজনের মরদেহ ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বাকি ১৯ জন। তাদের পরিবার এখনও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সময় হারিয়ে ফেলা বাবা, ছেলে, ভাই কিংবা স্বামীকে খুঁজে ফিরছেন।

নয়া দিগন্ত

‘মালয়েশিয়ায় লোক পাঠিয়ে ১১২৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ’-এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে জনশক্তি রফতানির ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত অর্থের অতিরিক্ত এক হাজার ১২৮ কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আদায় ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও তার পরিবার, সাবেক সংসদসদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং সাবেক সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদের প্রতিষ্ঠানসহ ১২টি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় মোট ৩৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গতকাল দুদকের মহাপরিচালক মো: আক্তার হোসেন মামলা দায়েরের বিষয় জানিয়ে বলেন, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ও অসৎ উদ্দেশ্যে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাবেক মন্ত্রী, এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর হিসেবে, বায়রার বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনকালে সিন্ডিকেট করে বিএমইটি ও বায়রার রেজিস্ট্রেশনের শর্ত ভঙ্গ করে সরকার নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার চেয়ে ৫ গুণ অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ করেন।

তিনি বলেন, অভিযুক্তরা চুক্তিবদ্ধ আইনসঙ্গত পারিশ্রমিক ব্যতীত এবং চুক্তির শর্ত মোতাবেক কাজ না করে পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে অবৈধ পারিতোষিক গ্রহণ করে মালয়েশিয়ায় প্রেরিত কর্মীর কাছ থেকে পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রতি কর্মীর কাছ থেকে নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করে আত্মসাৎ করেছেন। তারা অবৈধভাবে গৃহীত অর্থ অবৈধ পন্থায় হস্তান্তর, স্থানান্তর, রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থ পাচার করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *